নৌকা না পেয়ে টাকার মালা পরে প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচন ঘিরে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর ‘অশোভন কাণ্ডে’ আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) তোফাজ্জল হোসেন গলায় টাকার মালা ঝুলিয়ে জামানতের টাকা জমা দিয়েছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

সোমবার বৃষ্টির মধ্যেই ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ কর্মী নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান তিনি।

গলায় টাকার মালা পরিহিত মিছিলের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে অনেক কর্মীরা তার এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচন কমিশন বলছে, বিষয়টি নিয়ে আইনগত দিক বিবেচনা করে পরে কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে এমন কাণ্ড নিঃসন্দেহে বেআইনি।

কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বৃষ্টিতে ভিজে ৫ শতাধিক নারী পুরুষ কর্মী সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন দাখিল দিতে যান বরমী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন। এ সময় তার গলায় টাকার মালা পরিহিত ছিল। দুইশ টাকা নতুন কিছু নোট দিয়ে মালাটি তৈরি করা হয়েছে।

তারা জানান, তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক চেয়ারম্যান বাদল সরকারের মৃত্যুর পর তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করেন।

এতে মানুষকে টাকার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলে অনেকে অভিযোগ তুলেছেন।

বরমী ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল রানা, আবুল হোসেন, কামাল খান বলেন, ওই প্রার্থীর গলায় অনেকগুলো দুইশ টাকার নোট ঝুলতে দেখা গেছে । একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অবশ্যই আইন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা স্বীকার করে জনসেবা করতে হবে।

ইউনিয়নের আরেক ভোটার নাসির উদ্দিন বলেন, বহু বছর আগে নিভৃত পল্লি অঞ্চলে মাঝে মাঝে এ ধরনের টাকার মালা গলায় দিয়ে মিছিলের সংস্কৃতি দেখা যেত। আধুনিক সময়ে এসে এ ধরনের সংস্কৃতি বেমানান। টাকার মালা গলায় দেওয়ার বিষয়টি মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির বার্তা ছড়াতে পারে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন বলেন বলেন, আমার এক ভক্ত নির্বাচন করব এমন খুশিতে আমার গলায় টাকার তৈরি একটি মালা পরিয়ে দেয়। পরে আমি খুলে ফেলেছি। ভক্তদের খুশি করতে বা তাদের ভালোবাসা রাখতে অনেক সময় ভুল হয়ে যায়। আরো সতর্ক থাকব সামনের সময়ে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আল নোমান জানান, এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। কেউ এমনি করতে পারে না। আর টাকার মালা পরে মিছিল অশোভন ও অসুন্দর একটি কাজ। তিনি বলেন আমি ট্রেনিং আছি বিস্তারিত জেনে বলতে পারব।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কাজী মো. ইস্তাফিজুল হক আকন্দ বলেন, নির্বাচনের কোনো প্রার্থীর টাকার মালা গলায় দিয়ে এ ধরনের মিছিল করা অশোভন। এটা সুন্দর দেখায় না। এমনটা করা ঠিক হয়নি। এটা মানুষের মাঝে নীতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত