সদ্য পদত্যাগী তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম-কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘আমি অন্য কোনো বাহিনীর কথা বলব না। যেহেতু তিনি (মুরাদ হাসান) ডিবির কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা যদি প্রয়োজন মনে করি তাহলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে ডা. মুরাদ হাসানের সঙ্গে নায়িকা মাহিয়া মাহির ফোনালাপ ফাঁস এবং সেখানে ডিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথা উঠে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে গত সোমাবার রাত ১০ টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আসেন নায়ক ইমন। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। রাত ১২ টার দিকে বের হয়ে যান।
নায়ক ইমনের মোবাইল থেকে অডিওটি ছড়িয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা এখনো তদন্ত করছি এটা।’
নায়ক ইমন ও মাহিয়া মাহিকে একসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না জানতে চাইলে ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ যদি অভিযোগ দায়ের করে এবং আমাদের ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। সাইবার রিলেটেড ঘটনা আসলেই আমরা একটু খোঁজ নিই। গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত করি। এ ছাড়া ইমন নিজ থেকে এসেছেন, মাহিও যদি নিজ থেকে আসেন আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব।’
সেদিন ফোনালাপের পরে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে এখনো আসেনি। আমরা প্রয়োজনে সবার সঙ্গেই কথা বলব।’
নায়ক ইমনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে তিনি নায়িকাদের বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেন, প্রতিমন্ত্রীর কাছেও তিনি নিয়ে যাওয়ার কথা বলছিলেন, আপনারা ইমনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেলেই বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।’
সোমবার রাতে নায়ক ইমনকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে আমরা কল করি নাই, সে এসেছিল তার সাইবার রিলেটেড কিছু সমস্যা নিয়ে। তার একটি ছবি মুক্তি পাবে এটা নিয়ে দাওয়াতও দিয়েছেন এবং সে এটাও বলেছেন তার মোবাইলটা নাকি হ্যাক হয়েছে। সেটাও আমরা দেখছি। এর পাশাপাশি ইমন তার ভিডিও ও ফোনালাপের বিষয়ে কথা বলেছে। সে সার্বিক বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে, আমরা শুনেছি। সে চা খেয়ে চলে গেছে।’
ডা. মুরাদের সঙ্গে ইমনের ফোনের কথোপকথন কতদিন আগের জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সে বলেছে তার টেলিফোনে এক দেড় বছর আগে নাকি এমন একটি কথা হয়। তার টেলিফোনে রিং দিয়েছিল সেটাও বলেছে।
সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে অসৌজন্যমূলক কথা বলেন। এ ছাড়া এর কয়েকদিন পরই প্রতিমন্ত্রী মুরাদের ফোনের একটি কথোপকথন ফাঁস হয়, যেখানে তিনি অশ্লীল ভাষায় চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে তার সঙ্গে একটি হোটেলে দেখা করার জন্য বলেন।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে ডা. মুরাদের শাস্তির দাবি ওঠে।
এ পরিস্থিতিতে সোমবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছিলেন, ‘সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে এবং তিনি তাকে আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে পদত্যাগ করতে বলেছেন। আমি আজ (সেমবার) রাত ৮টায় তাকে বার্তাটি পৌঁছে দিই।’
এরপর মঙ্গলবার দুপুরে সাড়ে ১২টায় ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করে নিজ মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র পাঠান ডা. মুরাদ হাসান। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন... যত কাণ্ডে ভাইরাল হয়েছিলেন মুরাদ হাসান
