জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে খাবারের সময় ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার আগমনকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
খাবারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে শিক্ষকদের সঙ্গে একই টেবিলে খেতে দেখা যায়।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান শুরু হয়। সেখানে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভাও হয়। এ অনুষ্ঠান শেষে সেখানে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন শিক্ষকরা।
তবে খাবারের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভি একই টেবিলে বসে শিক্ষকদের সঙ্গে খাবার খান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবারের এ অনুষ্ঠানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত ছিল। শিক্ষক ব্যতিত বাইরের কেউ এ অনুষ্ঠান কিংবা পরবর্তী খাবারের সময়েও থাকার কথা ছিল না।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজকে শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে একটি সাধারণ সভা হয়েছে। আর আমরা মূলত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯-২০ এবং ২০২০-২১ শিক্ষবর্ষে যেসব শিক্ষক অবসরে গেছেন, তাদের সম্মাননা প্রদান করেছি। এই অনুষ্ঠানে শুধু শিক্ষকদের থাকার কথা।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে বিএনপির নানা ধরনের আন্দোলন চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদেরও সামনে কর্মসূচি রয়েছে। এমন সময়ে শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে বাইরের কেউ আসাটা সমীচীন নয়। সংরক্ষিত প্রোগ্রামে তিনি যার সঙ্গেই আসুক এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, শিক্ষক সমিতির এ অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের ওই সাবেক নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী নিয়ে এসেছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হেল কাফী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি তাকে নিয়ে আসিনি। খাবারের সময় পাশে বসা ছিল। সেখানে আরও অনেক শিক্ষকই তো ছিলেন।’
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় নাজমুল হাসান অভির সঙ্গে।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে কেউ সেখানে নিয়ে যায়নি। আমি মূলত, ব্যক্তিগত একটি কাজে কাফী স্যারের কাছে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে বিভাগেই দেখা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেরি হওয়ায় স্যার অডিটোরিয়ামে চলে গিয়েছিলেন। পরে আমি সেখানে যাই। তবে আমি জানতাম না ওখানে শিক্ষকদের কোনো অনুষ্ঠান রয়েছে। শিক্ষকরা ওখানে খাবার খাচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে পরিচিত অনেকে থাকায়, তারা জোর করেই আমাকে খাবারের টেবিলে বসিয়ে দেন।’
