জয়িতা অন্বেষণ বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমে ‘সফল জননী নারী’ ক্যাটাগরিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত হয়েছেন মোসা. বেদেনা আমিন।
আশি বছর বয়সী এই আলোকিত নারী পাহাড়ি সীমান্তঘেঁষা নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বরুয়াকোনা গ্রামের অধিবাসী। তার স্বামী মরহুম হাজী ইব্রাহিম আমিন ছিলেন ধর্মপ্রাণ, সমাজসেবক ও ধনাঢ্য গৃহস্থ।
সফল জননী নিজে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারলেও সন্তানদের করেছেন সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী এবং পড়িয়েছেন সেরা বিদ্যাপীঠে। সার্টিফিকেট মাপে শিক্ষিত না হলেও মনের আলোয় শিক্ষিত নারী বেদেনা আমিন।
দুর্গম পাহাড়ি জনপদ, নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অপ্রতুল শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝেও সন্তানদের করে তুলেছেন শিক্ষিত ও সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত।
এই নারী ১০ সন্তানের বড় গৃহস্থ সংসার সামলে সন্তানদের নিয়ম করে স্কুলে পাঠাতেন এবং দেশে নামকরা বিদ্যাপীঠে পড়ার উৎসাহ জোগাতেন।
স্কুল পেরিয়ে কলেজের সময় হলে আশপাশে না পড়িয়ে ঢাকায় পাঠাতেন এই শিক্ষা সচেতন নারী। তার অনুপ্রেরণায় ছোট তিন ছেলেমেয়ে দেশসেরা নটরডেম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান।
বেদেনা আমিন সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদাহরণ টেনে সন্তানদের উৎসাহ দিতেন। এবং বর্তমানে তার সন্তানেরা সুনামের সঙ্গে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। শুধু তাই নয় সন্তানদের বিয়ের ব্যাপারে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন তিনি।
অত্যন্ত কোমল স্বভাবের মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন এই শিক্ষানুরাগী এই নারী সন্তানদের পাশাপাশি পাড়া প্রতিবেশী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি-সহ নানাভাবে আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎসাহ জোগাতেন। পড়ালেখায় ক্লাসে কেউ প্রথম হলে তার বাড়ি গিয়ে অনুপ্রেরণা দিতেন ও অভিভাবকদের বোঝাতেন।
শুধু সন্তানই নয়, নাত-নাতনির উচ্চ শিক্ষার ব্যাপারে সজাগ এই নারী। তার দেখানো পথ অনুসরণ করে নাতি-নাতনির মাঝে ২ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ১ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন ইডেন, ১ জন ঢাকা কলেজসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
নিজে পড়তে না পারার কষ্ট সন্তানদের শিক্ষিত করে উশুল করার চেষ্টা করেছেন মা হিসেবে এটাই তার সফল সার্থকতা।
