করোনা টিকার বুস্টার ডোজ নিয়েও ওমিক্রন এর হাত থেকে রেহাই নেই! কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরেও করোনা ভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন-এ সংক্রমিত হয়েছেন সিঙ্গাপুরের ২ নারী। বৃহস্পতিবার খবরটি নিশ্চিত করেছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ফলে ওমিক্রন নিয়ে আতঙ্ক যে আরও বাড়ল তা বলা বাহুল্য।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরেও যে দুজন ওমিক্রন-এ সংক্রমিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন হলেন সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরের যাত্রী পরিষেবার কর্মী। ২৪ বছর বয়সী ওই নারী কর্মী-ই শহরের প্রথম ওমিক্রন-সংক্রমিত বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। সিঙ্গাপুরের ওমিক্রন সংক্রমিত দ্বিতীয়জনও নারী। ৪৬ বছর বয়সী ওই নারী গত ৬ ডিসেম্বর জার্মানি থেকে এসেছেন। তাদের দুজনেরই কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ অর্থাৎ বুস্টার ডোজ নেওয়া রয়েছে বলে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা, ফাইজার এবং বায়োএনটেক এসই চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দাবি জানিয়েছিল, ‘ওমিক্রন’ মোকাবিলার জন্য তাদের তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ নেওয়া জরুরি। ফাইজার এবং বায়োএনটেক-এর গবেষকরা লক্ষ্য করেছিলেন, যারা কোভিড ভ্যাকসিনের কেবল দুটি ডোজ নিয়েছে, তাদের দেহে তৈরি অ্যান্টিবডি করোনা ভাইরাসের মূল প্রজাতির সঙ্গে লড়াই করতেই ২৫ গুণ শেষ হয়ে যায়। তাই ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের সমতুল্য একটি অতিরিক্ত বুস্টার ডোজ দিয়ে অ্যান্টিবডি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
তাহলে বুস্টার ডোজ নিয়েও কেন সিঙ্গাপুরের দুই নারী ‘ওমিক্রন’ সংক্রমিত হলেন? এমন প্রশ্নও উঠছে। যদিও সিঙ্গাপুরে ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম বলে দাবি সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উচ্চ সংক্রমণযোগ্য ওমিক্রন বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের গোষ্ঠীর মধ্যে ও সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও বেশি ‘ওমিক্রন’ সংক্রমিতের খোঁজ পাওয়া উচিত ছিল’।
তবে ওমিক্রন মোকাবিলায় সিঙ্গাপুর সরকার সচেতন দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে বিমানবন্দরের ওই নারী সেবিকার প্রতি সপ্তাহে করোনা পরীক্ষা করা হয়। সম্প্রতি তাঁর মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দেয় এবং পরীক্ষা করতেই রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
অন্যদিকে, জার্মানি থেকে আগত ওই ব্যক্তির বিমানবন্দরে প্রাথমিক পরীক্ষায় করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছিল। পরদিনই তাঁর সর্দি হলে ফের করোনা পরীক্ষা করা হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
‘ওমিক্রন’ সংক্রমিত দুই নারীকে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ’-এর আইসোলেশনে রাখা হয়েছে বলে সিঙ্গাপুর স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে খবর। এছাড়া তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও ১০ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে সিঙ্গাপুরে কোভিড সংক্রমণের হার নিম্নমুখী ছিল এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমেছে। ব্লুমবার্গের সমীক্ষা অনুযায়ী, টিকা দেওয়ার হারে বিশ্বের সেরা শহরগুলোর মধ্যে একটি সিঙ্গাপুর। ইতিমধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যার টিকাযোগ্য ৯৬ শতাংশের মধ্যে ৮৭ শতাংশেরই টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। ২৯ শতাংশের বুস্টার ডোজও সম্পন্ন। অধিকাংশই ফাইজার অথবা মডার্ণা-র টিকা নিয়েছে। এবার ৫ বছর থেকে ১১ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়ার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুর সরকার।
