বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামিদের পরিবারেরও দায় দেখছেন তার ভাই আবরার ফাইয়াজ।
বুধবার আবরার হত্যা মামলায় ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ সময়ে আসামিদের স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দেশের মেধাবীদের বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত বুয়েটের ছাত্রদের এমন পরিণতি অনেকেরই মনোবেদনার কারণ হয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কয়েকজন আসামির পারবিারিক অবস্থা ও তাদর সংগ্রামের চিত্রও তুলে ধরা হয়। অনেকে এর জন্য রাজনীতিকে দায়ী করে মতামত লেখেন।
এ প্রেক্ষিতে আবরারের ভাই ফাইয়াজ শুক্রবার রাতে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন।
সেখানে তিনি লেখেন, 'কাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন আপনারা ?
২০ বছর ধরে যারা সন্তানদের মানুষ করতে পারল না , মাত্র ২ বছর পরিবার থেকে দূরে থেকে সন্তান খুনি হয়ে ওঠে সেই পরিবার কিভাবে নির্দোষ হয়? প্রতিষ্ঠান আর রাজনীতির উপর দায় দিয়ে পরিবারগুলো সাধু হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন রাজনীতি করে যদি সন্তান খুনী হয়ে যায় তাহলে সেই দায় অবশ্যই পরিবারের।'
২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, ‘শিবির সন্দেহে’ তাকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী (পরে বহিষ্কৃত)।
এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
একই বছরের ১৩ নভেম্বর আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ওয়াহেদুজ্জামান।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। এ মামলায় ৬০ জনের মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গত ১৪ মার্চ কারাগারে থাকা ২২ আসামি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় আত্মপক্ষ শুনানি করতে পারেননি। এরপর কয়েকজন আসামি নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন।
গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলায় কিছু ত্রুটি থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। ৮ সেপ্টেম্বর আদালত ২৫ আসামির বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ গঠন করে। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মপক্ষ শুনানিতে গ্রেপ্তার সব আসামি আবারও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।
