নেত্রকোনার বারহাট্টায় আমন ধানের ভেজাল বীজ কিনে বিপদে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে উপজেলার কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার আলোকদিয়া সেতুসংলগ্ন ‘শাওন এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক আজহারুল ইসলাম স্বপনের কাছ থেকে বীজধান কিনে সর্বনাশ হয়েছে তাদের। ১০ কেজির ধান বীজের প্যাকেট কৃষকদের কাছে এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় বিক্রি করেছেন ডিলার স্বপন। ধান বীজের নাম ‘বিআর-২২’ হওয়ার কথা থাকলেও ডিলার স্বপনের কাছ থেকে কেনা ধান বীজের প্যাকেটের গায়ে লেখা ছিল ‘ব্রি-২২।’
জানা যায়, ময়মনসিংহের শিখা এগ্রো ফার্ম নামে একটি বীজের দোকান থেকে ধান বীজ এনে কৃষকের কাছে বিক্রি করেছেন ডিলার স্বপন। ভেজাল বীজ কিনে দুই উপজেলার শতাধিক কৃষকের প্রায় ৫০-৬০ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেছে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক কৃষক গত ২১ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হযরত আলী, আল্লাদ মিয়া, কাঞ্চন মিয়া ও রুকন মিয়া বলেন, ডিলার স্বপনের কাছ থেকে সরল মনে ধান বীজ কিনে ১ একরের বেশি জমিতে রোপণ করে বিরাট ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছি। চাষাবাদে প্রতি ১০ শতক জমিতে ১৫শ থেকে ১৭শ টাকা খরচ হয়েছে। আমাদের পাশের জমিতে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা তাদের আগে জমিতে ধান রোপণ করেছি। কিন্তু ভেজাল বীজের কারণে আমাদের ধান গাছ বাড়েনি, ছোট গাছেই চালবিহীন চিটা ধান হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিলার আজহারুল ইসলাম স্বপন বলেন, বিএডিসির বীজ না থাকায় প্রাইভেট ধান বীজ বিক্রি করেছি, তবে এর পরিমাণ সামান্য। বেশিরভাগ বীজ পাশের মোহনগঞ্জ বাজার থেকে কিনে এনেছেন কৃষকরা।
শিখা এগ্রো ফার্মের মালিক মো. রাসেল বলেন, আমাদের শর্ত হলো বীজ থেকে ধান গাছ জন্মাল কিনা। আমাদের এই ধান হয় ১৬০ দিনে। এখানে কৃষকরা ধানবীজ কিনে ঘরে রেখে দুই মাস পরে জমিতে রোপণ করেছে। ফলে এমনটা হয়েছে।
ওই এলাকার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন বলেন, কৃষকের মাঠ ঘুরে দেখেছি। এই ধান কৃষক ঘরে তুলতে পারবেন না। বিআর-২২ এর জায়গায় ওই ধান বীজের প্যাকেটে ব্রি-ধান ২২ লিখা ছিল। ব্রি-ধান ২২ বলে কোনো ধান নেই। ওই বীজ ভেজাল বলে মনে হয়েছে। স্বপন ডিলারের কাছ থেকে এই ধান বীজ কিনে শুধু বারহাট্টা নয়, পাশের ধর্মপাশা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বীজের তেমন কোনো সমস্যা নেই। দেরি করে রোপণ করার কারণে এমনটা হয়েছে।
বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সানজিদা চৌধুরী বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এফ. এম মোবারক আলী বলেন, ‘ব্রি-ধান ২২’ নামে কোনো ধান নেই। এখানে পুরোটাই প্রতারণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
