বাংলাদেশের কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ডই রাসেল ডমিঙ্গোর শেষ সিরিজÑ এমন রব উঠেছে। নতুন চুক্তি হলেও বিশ্বকাপ ব্যর্থতার জেরে বিসিবি এখন আর তাকে রাখতে চাইছে না। একই সঙ্গে বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের নামটাও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গুডবুক থেকে সরে গেছে। আবার প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর ওপর বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায় পড়ে। তাই তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট চলাকালীন এসব কিছুর সমাধানের জন্য মাসখানেক সময় চেয়েছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। কিন্তু গতকাল বিকেএসপিতে বিসিবি প্রধান জানালেন এক মাস নয়, বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্ট আরও দুই মাস, মানে মোট তিন মাস সময় পাচ্ছে। বিসিবি প্রধান টিম ম্যানেজমেন্ট উল্লেখ করায় কোচ-নির্বাচক সবাই টিকে যাচ্ছেন অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ পর্যন্ত। মার্চ-এপ্রিলে তিন ওয়ানডে ও দুই টেস্টের জন্য রাসেল ডমিঙ্গোর দেশে সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
পাপন নিজ মুখে টিম ম্যানেজমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। তাতে হেড কোচ এবং কোচিং স্টাফ, নির্বাচকসহ দল নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকেই বোঝায়। দুদিন আগে প্রধান নির্বাচক নান্নু বোর্ডের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানান। ৮ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে ডমিঙ্গোর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন পাপন। সেখানে টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ কারণেই কাল বিকেএসপিতে পাপন বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টকে সময় দেওয়ার কথাটা উল্লেখ করেন সাংবাদিকদের কাছে, ‘ওরা তিন মাস সময় চেয়েছে, এই সময়ে ওদের বিরক্ত করতে চাই না। ওরা যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়... এতদিন তো সময় দেইনি। একটু সময় পাবে না? গত দেড় বছরে তো এমন হয়নি। তামিম, সাকিব, রিয়াদ নেই। মূল তিন খেলোয়াড় নেই। এটার প্রভাব থাকবে না? এখানে তো নতুন তিনজনকে দিতে হবে। দিতে গিয়ে অনেক সময় পরিবর্তন করে। কেন করে জানি না, তবে আমার মনে হয় ভালো কারণেই করে।’
পাপনের ব্যাখ্যা সময় চাওয়া হয়েছে বাস্তবিক কারণেই। বাংলাদেশ দল এখন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মূল খেলোয়াড়রা না থাকায় তরুণদের খেলাতে হচ্ছে। তরুণরা আবার বিশ্বসেরা বোলিং অ্যাটাকের মুখোমুখি হননি আগে। নতুন মুখোমুখি হয়ে সমস্যায় পড়ছেন। এই সমস্যাটা ধীরে কাটবে, খেলার অভিজ্ঞতা দিয়ে কাটবে। তাই সময় দিতে আপত্তি করলেন না পাপন। নির্দিষ্ট কারও নাম না বলে দলের সবাইকে সময় দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাদের চেষ্টা করতে দিন। সাইফই খেলত, ওর টাইফয়েড দেখে বিকল্প লাগত। নিশ্চিত ছিল এমন অনেকে নেই। তামিম হঠাৎ নেই। করোনার মধ্যে খেলাতেও পারিনি। তারপরও আমি একেবারেই চিন্তিত না। আমাদের যে ছেলেরা আছে এবং পাইপলাইনে যে ছেলেরা আছে এটা শুধু সময়ের ব্যাপার। যারা পারফর্ম করছে না তারা করবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
পাকিস্তানের সঙ্গে মিরপুর টেস্ট চলাকালীন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও তামিম ইকবালের সঙ্গে আলোচনা করেন পাপন। আবার বিশ্বকাপের পরও এ দুজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে এসব আলোচনায় বিশেষ কোনো দিক নিয়ে আগাননি বলে জানান বিসিবি প্রধান। এমনকি মাশরাফীকে কোনো ভূমিকায় জাতীয় দলে ফেরানো হবে কিনা সে রকম কিছু না। তবে এখন মাশরাফীকে ফেরালেও ভবিষ্যতের জন্য প্রশ্নটা তোলা রাখলেন পাপন, ‘জানি না। ওরকম কিছু হয়নি। মাশরাফী যদি আসতে চায় আমরা তো চাইবই তাকে নিয়ে আসতে। এখন পর্যন্ত ওরকম কোনো আলোচনা হয়নি।’
