ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আরব আমিরাত সফরে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে এই প্রথমবার কোনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করবেন। সোমবার উপসাগরীয় এই দেশের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আমিরাত সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলেনি। এই সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামরিক খাতে সম্পর্ক জোরদারের আশা করছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার বিষয়েও আলাপের কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কো ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।
ছয় বিশ্বশক্তি এবং ইরানের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনার পটভূমিতে এই সফর করছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েল উভয়েই এই অঞ্চলে ইরানের পারমাণবিক শক্তি অর্জনের বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ইসরায়েল বলছে যে, তারা তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলে যে তার পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল তার শীর্ষ কূটনীতিকদের ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে দেখা করে ইরানের কঠোর হওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
ভিয়েনায় চলমান আলোচনার লক্ষ্য এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তিতে ফিরিয়ে আনা এবং ইরানকে তার প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সম্পূর্ণ সম্মতিতে ফিরিয়ে আনা।
বেনেট ভিয়েনা আলোচনা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেল’ এর অভিযোগ এনেছেন এবং অভিযোগ করেছেন যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের করার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে পাওয়া মুনাফা দিয়ে ইরান তার সামরিক শক্তি বাড়াবে যা ইসরায়েলের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
