নির্বাচনী সহিংসতার ছবি তোলায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:০২ পিএম

পাবনার ভাঁড়ারায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচনী সহিংসতায় কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘাতে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ নাসিম (১৮)। তিনি দুবলিয়া কলেজের চলতি শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ও তারাবাড়িয়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে। 

এ ঘটনায় চরতারাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিহত নাসিমকে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান ও নৌকার প্রার্থী রবিউল আলমের সমর্থকরা নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে। তবে তিনি কারো সমর্থক নন বলে জানিয়েছে পরিবার।  

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় তারাবাড়িয়া বাজারে নৌকার প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের পৃথক প্রচার মিছিল থেকে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এ সময় নাসিম বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন। সংঘর্ষ শুরু হলে ঘটনার ছবি তার ফোনে ধারণ করায় কয়েকজন যুবক ক্ষিপ্ত হয়ে নাসিমের ওপর হামলা করে উপুর্যপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তাকে বাধা দিতে গেলে আরো কয়েকজন ছুরিকাহত হন। পুলিশ ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপর একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনউজ্জামান সরকার বলেন, ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় চরতারাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান অভিযোগ করেন, আমার নৌকার প্রার্থীর পক্ষ হয়ে সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ও চেয়ারম্যান রবিউল আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন নিজেই ঘটনাস্থলে এসে শর্টগান দিয়ে গুলি করেছেন। ঘটনার ছবি তোলায় আমার সমর্থক নাসিমকে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাতিজা ও সুজানগর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সোহাগ তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই, জীবনের নিরপত্তা চাই।

তবে নিহত নাসিমের বাবা নায়েব আলী বলেন, আমার ছেলে রাজনীতিতে যুক্ত নয়। বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিল। নির্বাচনেও আমার পরিবার কারো পক্ষে ছিল না। বিনা কারণে আমার নিরীহ ছেলেকে হত্যা করা হলো। আমি কার কাছে এর বিচার চাইব?

ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে পাবনা শহরে যাওয়ার সময়ে উত্তেজনা দেখে বাড়ি ফিরে এসেছি। সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত