যেকোনো সময় ভেঙে চৌচির হবে অ্যান্টার্কটিকার অন্যতম হিমবাহ

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৩৬ পিএম

অ্যান্টার্কটিকার সবচেয়ে বড় হিমবাহগুলোর একটি থোয়েইটস। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে এই হিমবাহে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।

থোয়েইটস একটি অতিকায় হিমবাহ। এর আকার কমবেশি ব্রিটেন অথবা ফ্লোরিডার সমান। গত ৩০ বছর ধরে এটির গলে যাওয়ার গতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এর সামনের যে অংশটি পানিতে ভাসতে দেখা যাচ্ছে, আপাতত সেটি স্থির থাকলেও যেকোনো সময় এটি ভেঙে চৌচির হয়ে যেতে পারে, যেমনি ফাটল ধরার পর ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা বিশালাকার হিমবাহটি পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ এটি খুব দ্রুত গতিতে গলে যাচ্ছে। বর্তমানে এই হিমবাহ থেকে প্রতিবছরে পাঁচ হাজার টন বরফ মহাসাগরে মিশে যাচ্ছে।

সমুদ্র সীমায় এর প্রভাব এখনো সামান্য। কিন্তু এই হিমবাহের ওপরের দিকে যত বরফ রয়েছে, তার সব যদি গলে যায়, তাহলে সমুদ্র সীমা ৬৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।

এ রকম ভয়াবহ বিপর্যয় শত বছরে একবার আসতে পারে। কিন্তু গবেষক দল দেখতে পেয়েছেন, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এই হিমবাহে জমে থাকা বরফ গলার হার অনেক বেড়েছে।

হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল থোয়েইটস গ্লেসিয়ার কোলাবরেশন প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক টেড স্ক্যামবোস বলেন, ‘সম্ভবত আগামী এক দশকের কম সময়ের মধ্যেই এই হিমবাহের সামনের অংশে নাটকীয় একটি পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রকাশিত এবং অপ্রকাশিত সব গবেষণায় সেই ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।’

গবেষকেরা বলছেন, সমুদ্রের উষ্ণ পানি হিমবাহের নিচে প্রবেশ করছে এবং সামনের অংশকে গলিয়ে দিচ্ছে।

উষ্ণ পানি থোয়েইটসের জমে থাকা বরফকে সংকুচিত আর দুর্বল করে তুলছে। যার ফলে হিমবাহটির গতি বাড়ছে এবং যেখানে হিমবাহ ভেসে থাকে, সেই এলাকা থেকে সরে যাচ্ছে।

হিমবাহের আকার হিসেবে বিবেচনা করলে প্রভাবিত এলাকা তেমন বড় নয়। কিন্তু এটি নতুন এলাকার দিকে যাচ্ছে, যার মানে হলো হিমবাহ থেকে আরও বরফ গলে যাবে। সেটির ফলে গুরুতর প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে হিমবাহের ৪০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের পূর্বের এলাকাটি প্রতি বছর ৬০০ মিটার করে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতি বছর উত্তর মেরুতে গ্রীষ্মের সময় বিজ্ঞানীরা হিমবাহগুলোর গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করেন। এ জন্য তারা হিমবাহতে অবস্থান করে এবং জাহাজ ও স্যাটেলাইট থেকে নজরদারি করে থাকেন।

সামনের বছর একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোজাহাজ গিয়ে বিজ্ঞানীরা এই হিমবাহের নিচে গিয়ে পানির তাপমাত্রা, বর্তমান গতি ইত্যাদি নিয়ে আরও তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত