মেঝে খুঁড়ে অপহৃত ব্যবসায়ীর ১০ টুকরা লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩৫ পিএম

পাবনার ঈশ্বরদীতে অপহরণের চার দিন পর নাইমুল ইসলাম হৃদয় (২৫) নামে এক ব্যবসায়ীর ১০ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

সোমবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের চাঁদ আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে মাটিতে পুঁতে রাখা সুটকেস ভর্তি অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত হৃদয় ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপর ফুটবল মাঠ সংলগ্ন এলাকার মজনু আলীর ছেলে। তিনি পাবনা এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র হিসেবে অধ্যয়নরত ছিলেন।

এ ঘটনায় জড়িত হাসান আলীকে পুলিশ সোমবার রাতে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাশুড়িয়া-লালন শাহ সেতু মহাসড়কের নওদাপাড়া দোতলা মসজিদ সংলগ্ন চাঁদ আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হৃদয়ের ১০ টুকরা লাশ উদ্ধার করা হয়।

চক্রটি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাকশীর রূপপুর তিন বটতলা এলাকায় হৃদয়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ওই দিন সকালে হৃদয়কে প্রকাশ্যে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। পরে হৃদয়ের মোবাইল ফোন থেকে কল দিয়ে তার স্বজনের কাছে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে তারা।

নিহত হৃদয়ের বড় ভাই জীবন হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে দোকানে আসার পরপরই একটি সাদা মাইক্রোবাস থামিয়ে প্রকাশ্যে অপহরণ করা হয় হৃদয় হোসেনকে। সেখানে উপস্থিত লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে পাবনার দিকে চলে যায় অপহরণকারীরা। এ ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়।

হৃদয়ের বাবা মো. মজনু জানান, অপহরণের পর শুক্রবার বিকেলে একবার আমার ছেলের মোবাইল থেকে আমাকে কল করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের দিনই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলাম। চার দিন পর তার লাশ পেলাম।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই তাকে উদ্ধার করার জন্য আমদের চেষ্টা অব্যাহত ছিল। সোমবার রাতে মুক্তিপণের দাবীকৃত টাকা নিতে এলেঅপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দাশুড়িয়া-লালন শাহ সেতু মহাসড়কের নওদাপাড়া দোতলা মসজিদ সংলগ্ন চাঁদ আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ভাড়া নেয়া ঘরের মেঝে খুঁড়ে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার হয়।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ অপহৃত ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অপহরণকারীরা হয়তো অপহরণের পরই হৃদয়কে মেরে ফেলে ঘরের মেঝেতে লাশটি টুকরো টুকরো করে পুঁতে রেখেছিল। হাসান আলী নামে অপহরণচক্রের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত