নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কমিটিতে ছাত্রলীগের ৫ বছর

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৩৯ পিএম

এক বছর মেয়াদি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়নি ৪ বছর ৮ মাসেও। ২০১৭ সালের ৭ মে ১৪ সদস্যের কমিটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে সেই সময়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

নজরুল ইসলাম বাবুকে সভাপতি ও মো. রাকিবুল হাসান রাকিবকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ হবে এক বছর। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না ছাত্রলীগের ইউনিট কমিটির ক্ষেত্রে। নির্ধারিত মেয়াদের বহুগুণ সময় বেশি নিয়ে চলে ইউনিট কমিটিগুলো।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ১৫ দিনের মধ্যে অগ্নিবীণা ছাত্র হলের কমিটি এবং দুই মাসের মধ্যে দোলনচাঁপা ছাত্রী হলের কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সধারণ সম্পাদক। চার বছরের অধিক মেয়াদহীন দুই হলের কমিটি চললেও নতুন করে হয়নি সম্মেলন কিংবা কমিটি গঠন।  অন্যদিকে একই চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ কমিটির ক্ষেত্রেও।

চার বছর  আগে কমিটি গঠন হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের। মেয়াদ চলে গেলেও এখনো হয়নি সম্মেলন। একই চিত্র সামাজিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে।

এমনকি পাঁচ বছরে পূর্ণাঙ্গ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মূল কমিটিও। এ কমিটির শুরু থেকে বর্তমান সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের দুই কমিটির পরিবর্তন হলেও অপরিবর্তনীয় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলে ছাত্রলীগ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবকে নিয়ে। ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু অনেকটা ক্লিন ইমেজের। সম্প্রতি হল প্রভোস্টের সঙ্গে বিজয় দিবসের ফিস্ট নিয়ে সমালোচনায় পড়েন রাকিব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার গুঞ্জন উঠেছে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভাঙার।

কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার দায় নিতে চান না বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। ২০১৮ সালের শেষে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলে জমা দেয়া রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারা। কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন না দিলে তাদের কিছু করার নেই বলেও জানান।

নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আমি ঢাকায় থেকে বারবার চেষ্টা করেছি। যেন কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা যায়। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটি এখনো তার অনুমোদন দেয়নি। আমি চাই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে। আর সেটি তখনই সম্ভব যখন কেন্দ্রীয় কমিটি চাইবে।

এই বিষয়ে রাকিব বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে এক মাস ঢাকায় ছিলাম তবু পারিনি। আমি চাই দীর্ঘদিন যারা আমার সঙ্গে রাজনীতি করেছে তারা তাদের পরিচয় পাক। তবে সেটির ক্ষমতা আমার কাছে নেই। কেন্দ্রীয় কমিটি যেন দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করে সেটির দাবীই আমি জানিয়ে আসছি।

পড়াশোনা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেছেন ১৪ সদস্যের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমত জাহান হিমি । ২০১৯ সালে শেষ হয় তার স্নাতকোত্তর শ্রেণির পড়াশোনা। পড়াশোনা শেষ হবার পরও হয়নি নতুন কমিটি। সংগঠনের এই অবস্থা নিয়ে ইসমত জাহান হিমি বলেন, সংগঠন গতিশীল রাখতে নির্ধারিত সময়ে ছাত্রলীগের সম্মেলন করা জরুরী, এতে করে কর্মীরা সক্রিয় থাকে। আমাদের ছাত্রলীগও ভালো থাকে। নতুবা পরিচয় না পাওয়ায় রাজনীতি থেকে সরে যেতে চায় অনেকেই। রেগুলার কমিটি হলে ধারাবাহিক শিক্ষার্থীরাই কেবল নেতৃত্ব আসবে আর তাহলেই সংগঠন সমৃদ্ধ হবে।

অন্যদিকে কমিটির আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিবের পড়াশোনা শেষ করার পরও এখনও রয়েছেন দায়িত্বে। চাকুরিতে থাকা সুদর্শন আইচ ও রয়েছেন এই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন কমিটির সহ-সভাপতি তানভীর আহমেদ পাপ্পু। এ ছাড়া কমিটির ১৪ সদস্যের অনেকেরই পড়াশোনা শেষ বলেও জানা গেছে।

বিজয় দিবসকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বাইরে অন্য সব গ্রুপ একত্রিত হয়ে দিবস পালন করতেও দেখা গেছে। হয়েছে কথাকাটি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার বার্তা প্রেরণ ও কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত