সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে পন্টুন বসাতে না পারায় আটকে গেছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সুপেয় ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ। ফলে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের গ্রহণ করা প্রকল্পটির ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এর সমাপ্তি এবং এর সুফল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, একই অধিদপ্তর থেকে বাস্তবায়িত আগের প্রকল্পের ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে সরবরাহকৃত পানি ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় তা এখন ব্যবহার অনুপযোগী। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন পৌরবাসী। এতে দেখা দিচ্ছে পেটের পীড়াসহ নানা অসুখ-বিসুখ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদী থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি তুলে এনে বিশুদ্ধ করে পৌরবাসীকে সরবরাহ করার লক্ষ্যে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। যার কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুছ অ্যান্ড ব্রাদার্স। চলতি বছরের ৩০ জুন কাজটি শেষ হলে ১ জুলাই ভৈরব পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের।
কিন্তু গত এপ্রিল মাসে সব কাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভৈরবের মেঘনা নদীর তীরে পানি সরবরাহ পাম্পের জন্য পন্টুন বসাতে গেলে বাধা দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তাদের দাবি, মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর কারণে ওই এলাকাটিকে কেপিআইভুক্ত ঘোষণা করেছে সরকার। কেপিআইভুক্ত এলাকায় কোনো স্থাপনা করতে গেলে পূর্বানুমতি লাগবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের। ফলে কাজটি থেমে যায়।
কাজটি যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় এবং ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে আবারও মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। এই সব জটিলতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ।
স্থানীয় গ্রাহকরা জানান, দিনের পর দিন পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। আর যদি পানি আসে, তবে সেই পানি ব্যবহার করার উপযোগী থাকে না। এ নিয়ে তারা অনেকবার বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করলেও ফল আসেনি।
ভৈরব পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত মোটরসুপার শাজাহান মিয়া বলেন, ১৯৯৭ সালে স্থাপিত বর্তমান পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্পটির বিভিন্ন ত্রুটির কারণে পানি সরবরাহে বিঘœ ঘটছে। নতুন প্রকল্পটি চালু হলে পৌরবাসীর পানির সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
ভৈরব উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদ রেজা জানান, প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর কেপিআই (কী পয়েন্ট ইনষ্টলেশন) এলাকায় পন্টুন স্থাপনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কথা বলে কাজটি আটকে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রকল্পটির মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে জুন মাসে।
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু এলাকার দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নরসিংদী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, কেপিআইভুক্ত এলাকায় স্থাপনা করতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন লাগবে। তারা যত দ্রুত সেই অনুমোদন আনতে পারবেন, তত দ্রুত কাজটি সমাপ্ত হবে।
