চিকিৎসা অ্যাক্রেডিটেশন আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ চিকিৎসা অ্যাক্রেডিটেশন আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ফলে উন্নত বিশ্বে চিকিৎসাবিদ্যার স্বীকৃতি অর্জনের পথ সুগম হলো।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইনের খসড়ারও নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে অনুমতি ছাড়া ওষুধ সেবনের পরামর্শ (প্রেসক্রিপশন) দিলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেন। আর মন্ত্রীরা সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষ থেকে সভায় যুক্ত হন। পরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশন (ডব্লিউএফএমই) যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উন্নত বিশ্বে চিকিৎসাবিদ্যার স্বীকৃতি অর্জন করতে হলে প্রতিটি দেশে একটি অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেবে।

তিনি বলেন, “এই অ্যাক্রেডিটেশনটা না থাকলে আমাদের দেশ থেকে কেউ এমবিবিএস পাস করলেও সে বাইরে পড়াশোনা করতে যেতে পারবে না, অন্য কোনো দেশে ডাক্তার হিসাবে স্বীকৃতি পাবে না।”

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “২০২৪ সালের মধ্যে যেসব দেশ স্বাধীন অ্যাক্রেডিটেশন কমিশনের মাধ্যমে চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দেবে না, ওইসব দেশের চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উচ্চশিক্ষা প্রশিক্ষণ গ্রহণ কিংবা পেশাগত কাজ করার সুযোগ পাবে না।”

নতুন আইনের অধীনে পরিচালিত অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল দেশীয় স্বীকৃতির নীতিমালাসহ ‘অ্যাক্রেডিটেশনের’ যাবতীয় বিষয় দেখভাল করবে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলাপ করে আমাদের অ্যাক্রেডিশেনের ক্রাইটেরিয়া ঠিক করতে হবে।”

ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইনের খসড়ার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুসারে স্বীকৃতি ছাড়া কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মিথ্যা উপাধি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিব আরও বলেন, এখানে একটি বোর্ড থাকবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মতো এখানেও একটি কাউন্সিল থাকবে। এ কাউন্সিল একাডেমিক বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত