বাবা ঝুলছিল, মায়ের লাশ বিছানায়… শিশুটি কাঁদছিল

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:৪৪ পিএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি কক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় বাবা-মা’র লাশের পাশে বসে কাঁদছিল ৩ বছরের শিশুটি।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া আবাসন প্রকল্পের নিজ ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন- কয়া আবাসনের জামাল শেখের ছেলে সুমন শেখ (২৫) ও তার স্ত্রী সোনিয়া খাতুন (২০)।

রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ, আবাসনবাসী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন পর আত্মীয়বাড়ি থেকে শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি আবাসনে ফিরে আসে সুমন ও সোনিয়া। স্বাভাবিকভাবেই রাতেই ঘুমিয়ে পড়েন তারা।  এরপর হঠাৎ রাত পৌনে ১২টার দিকে তাদের একমাত্র সন্তান সোহানের (৩) কান্না শোনা যায়। কান্না শুনে সুমনের বাবা জামাল শেখ তাদের শয়নকক্ষে গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করে। তার ডাকে কেউ সাড়া না দিলে ঘরের কাঠের জানালা ভেঙে ফেলেন জামাল শেখ। জানালা ভেঙে দেখেন সুমন রশির সঙ্গে ডাবে ঝুলছে আর সোনিয়া চিৎ হয়ে চৌকির ওপর শুয়ে আছে।

এরপর জামাল শেখে চিৎকার শুরু করে এবং ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ঝুলন্ত সুমনকে নামানো হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে থানায় নিয়ে আসে এবং রোববার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে পুলিশ।

তারা আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে সুমন গলায় রশি পেঁচিয়ে এবং তার স্ত্রী সোনিয়া বৈদ্যুতিক শক নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ বিষয়ে নিহত সুমনের বাবা জামাল শেখ বলেন, রাত পৌনে ১২ টার দিকে নাতি ছেলের কান্নার শব্দ শুনে ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। গিয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও তাদের ডাকাডাকি করি। ডাকে সারা না দেওয়ায় ঘরের জানালা ভেঙে দেখি ছেলে ঘরের ডাবের সঙ্গে রশিতে ঝুলছে আর ছেলের বউ চৌকিতে চিৎ হয়ে পড়ে আছে। এরপর চিৎকার শুরু করলে আবাসনের লোকজন ছুটে আসে এবং ঘরের দরজা ভেঙে ওদের ঘরের বাইরে নিয়ে আনে। পরে স্থানীয় ডাক্তার এসে তাদের মৃত ঘোষণা করে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নিহত সোনিয়ার বাবা লিটন বলেন, মোবাইলে খবর পেয়ে রাতেই আবাসনে ছুটে আসি। এসে দেখি আমার মেয়েকে ঘরের বারান্দায় শুয়ে রাখা হয়েছে আর জামাইকে চিকিৎসা করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় আত্মীয়বাড়ি বেড়ানো শেষে বাড়ি ফিরেছে। কীভাবে মারা গেছে জানি না। ময়নাতদন্ত করলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

কয়া আবাসনের সভাপতি আজিবর রহমান বলেন, রাত ১২ টার দিকে খবর পেয়ে দৌড়ে যায়। গিয়ে দেখি মেয়ের গলায় কারেন্টের (বিদ্যুৎ) তার আর ছেলেটি ঝুলছে ডাবে। হয়তো পারিবারিক কলহের জেরে তারা আত্মহত্যা করেছে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, উপজেলার কয়া আবাসনে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যু সঠিক কারণ জানা যাবে। এরপর পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তা আমলে নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত