সাটুরিয়ায় সরকারি স্কুলে ভর্তির লটারির ফলাফলে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৩৫ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ফল প্রকাশের মেধা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নামের তালিকায় অন্য শিক্ষার্থীদের নাম বসিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি উপস্থিতিতে সাটুরিয়া ইউএনওর কার্যালয়ে এ লটারির ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিভাবকেরা ভুয়া লটারির ফলাফল বাতিলের দাবি করেছেন।

তারা জানান, স্কুল সরকারি হওয়ার পর থেকে একটি চক্র ভর্তি বাণিজ্য করে আসছে। আরো অভিযোগ উঠেছে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা ভর্তি বাণিজ্য করছে ওই চক্রটি।

প্রকাশিত ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফরম নম্বর ৮৪ শিক্ষার্থীর নাম মো. বায়জিদ, পিতা মো. মামুন অর রশিদ, মাতার নাম নাসরিন আক্তার। কিন্তু লটারিতে দেখা যায় অন্য একজনের নাম। ফলাফলের ফরম নম্বরে মো. বায়াজিদ নাম কৌশলে পরিবর্তন করে সবুজ মিয়া পিতা ঠান্ডু মিয়া, মাতা নাছিমা আক্তার।

ফরম নম্বর ১৪১ শিক্ষার্থীর নাম আফরোজা আক্তার, পিতা আবুল বাশার ও মাতা মনিকা তারস্থলে নাম এসেছে শেহাব উদ্দিন, পিতার নাম আজমত আলী ও মাতার শিরিন বেগমের নাম রয়েছে। আবার ৪১ সিরিয়ালে আয়শা আক্তারের স্থলে আসিফ হোসেন।

মেধা ও অপেক্ষমাণ উভয় তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, ফরম নম্বর ৫ রাব্বি হোসেন, ফরম নম্বর ৩৭ অন্তর মনিদাস, ফরম নম্বর ৬৭ ফালগুনী দাস, ফরম নম্বর ১২৩ রায়হান হোসেন, ফরম নম্বর ১৩৮ উজ্জল হোসেন, ফরম নম্বর ১৪৫ মো. সায়াম হোসেন, ১৪৯ মো. ইউসুফ আলী ও ১৬৯ জিদান।

সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক অভিভাবক আ. রহিম ও মামুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, মেধা তালিকা ও অপেক্ষমাণ তালিকায় একই শিক্ষার্থীর নাম রয়েছে। আবার ফরম নম্বরের সঙ্গে নামের ফলাফল তালিকায় শিক্ষার্থীর নাম পিতা ও মাতার নামের কোনো মিল নেই। যে মেধা তালিকা করা হয়েছে তা একই সিরিয়ালে রয়েছে। যে সকল শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অনেকের মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়নি। অথচ যাদের নাম প্রকাশিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি তাদের মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি করতে এসে এসব অসংগতি ধরা পড়ে।

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন লটারির ড্র’তে ভুলের কথা স্বীকার করে বলেন, ভুলবশত নবম শ্রেণির গতবারের ভোকেশনালের নামের তালিকাটা এবারের ফলাফলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া সঠিক শিক্ষার্থীর নাম না এসে কিছু অন্য নাম এসেছে। মেধা তালিকা ও অপেক্ষমাণ উভয় তালিকায় কিছু নাম এসেছে।

সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আরা বলেন, লটারির মাধ্যমে ঘোষিত ফলাফল পাল্টানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব ভুল হয়েছে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত