বাগেরহাটে বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল পেয়ে শীতার্তরা খুশিতে আত্মহারা

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৪৫ পিএম

বাগেরহাটে বসুন্ধরা গ্রুপের কম্বল পেয়ে শীতার্তরা খুশিতে আত্মহারা হয়ে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সহযোগিতায় বুধবার বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২০০০ (দুই হাজার) শীতার্ত নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট শহরের শালতলাস্থ জেলা পরিষদ চত্বরে এই কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়।

কম্বল বিতরণের সময় অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বাগেরহাট শহরের সরুই মাদ্রাসা রোডে ছোট একটি টিন শেডের ভাড়া বাড়িতে দুই ছেলে মেয়ে আর প্রতিবন্ধী স্বামীকে নিয়ে বাস করেন দুর্গা রানী মণ্ডল। মধ্য বছর বয়সী এই নারী মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে অর্থ পায় তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন চলে। শীতবস্ত্রের অভাবে পৌষের এই শীতে অনেকটা জবুথবু হয়ে পড়েছে দুর্গা রানীর পরিবার। কম্বল আর লেপের অভাবে এই শীতে ওই পরিবারটির অনেক রাত কাটছে নির্ঘুমে। হাতে কম্বল পেয়ে খুশিতে আত্মহারা দুর্গা রানী।

বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে ও কালের কণ্ঠ শুভসংঘের সহযোগিতায় দুর্গা রানীর হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে। শরীরে কম্বল জড়িয়ে আনন্দ অশ্রু ঝরিয়েছেন তিনি। শুধু দুর্গা রানী নয় কম্বল হাতে পেয়ে তাসলিমা বেগম, সায়েরা বেগম, কল্পনা আক্তার, নুপুর, দেলোয়ার হোসেন, হালিম এবং কবির হোসেনসহ অসংখ্য নারী-পুরুষের অনুভূতি ছিল প্রায়ই একই রকম।

 কম্বল পাওয়ার পর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের জন্য দোয়া-আশীর্বাদ করলেন শত শত শীতার্ত অসহায় মানুষ।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক, বাগেরহাট সদর উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান বেগম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মীরা বেগম।

কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথিরা বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান। বসুন্ধরা গ্রুপের মতো সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দাবি রাখেন অতিথিরা।

জেলা পরিষদ চত্বরে কম্বল হাতে পেয়ে দুর্গা রানী জানান, প্রতিবন্ধী স্বামী আর দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে তার সংসার। আমি আর আমার মেয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে যে অর্থ পাই তাই দিয়ে খেয়ে না খেয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। কাজ না থাকলে অনাহারে দিন কাটে। শীত এলে কষ্টের শেষ থাকে না। কম্বলের অভাবে স্বামী আর ছেলে মেয়ে নিয়ে অনেক রাত জেগে কাটাতে হয়। এই কম্বল জড়িয়ে রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন এই নারী।

কম্বল শরীরে জড়িয়ে তাসলীমা বেগম জানালেন, এক বছর বয়সী ছেলে আর ছয় বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। নিশাগ্রস্ত স্বামীর মারধর আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্বামীর সংসার ছেড়ে চলে এসেছি। শহরের নাগের বাজার এলাকায় একটি ঝুপড়ি ঘর ভাড়া করে সেখানে বসবাস করছে। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম খেয়ে না-খেয়ে তার জীবন চলছে। পৌষের এই শীতে কম্বলের অভাবে রাতে ঘুমাতে কষ্ট হয়। কম্বল হাতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত এই নারী।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা পরিষদ চত্বরে প্রায় নয় শত শীতার্ত নারী-পুরুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ, চিতলমারী, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, কচুয়া এবং রামপাল উপজেলায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

বিকেলে জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাড়ে ৩০০ শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহী আলম বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার চৌধুরী ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাহিমা ছাবুল ও সাংবাদিক জামাল হোসেন বাপ্পা প্রমুখ।

এ ছাড়া বাগেরহাটের চিতলামারী উপজেলায় পরিষদ চত্বরে ১৫০ জন শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইয়েদা ফয়জুনন্নেছা।

জেলার মোল্লাহাটে প্রেসক্লাব মোল্লাহাট চত্বরে ১৫০ জন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদ হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. সেলিম রেজা, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি শহিদ মেহফুজ রচা, প্রেসক্লাব মোল্লাহাটের সাধারণ সম্পাদক এম এম মফিজুর রহমান ও সাংবাদিক এসকে শাহীন।

জেলার ফকিরহাট উপজেলার আট্টাকা কেরামত আলী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৫০ জন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ প্রধান অতিথি হিসেবে শীতার্তদের হাতে কম্বল তুলে দেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম ফকির ও সাংবাদিক মান্না দে।

রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট কামাল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১৫০ জন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এখানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন। আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধান শিক্ষক গাজী জাহাঙ্গীর আলম, শেখ রেজাউল কবির, শেখ সাহেনুজ্জামান ও সাংবাদিক হাওলাদার আব্দুল হাদি।

জেলার কচুয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে ২০০ জন শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন কচুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমা সরোয়ার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জীনাত মহল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও সাংবাদিক সুভংকর দাস প্রমুখ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত