নির্বাচনের তফসিলের পর আ. লীগের সমাবেশ, তৈমূরের আপত্তি

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:১৩ পিএম

আগামীকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। নগরীর দেওভোগ শেখ রাসেল সিটি পার্কে এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। এ ছাড়া সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের এই বিশাল শোডাউন নিয়ে আপত্তি তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার।

মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমের কাছে তিনি বলেন, সরকারদলীয় প্রার্থীকে সুবিধা দিতেই এই বিজয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারকে টেলিফোন করে জানিয়েছি।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত জানান, মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে নগরীর শেখ রাসেল পার্কে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক, মির্জা আজমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশকে ঘিরে শেখ রাসেল পার্কে মঞ্চ বানানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল ৩টার মধ্যে এই সমাবেশ শুরু হবে। বিজয় সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলার মন্ত্রী-এমপি ও শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সমাবেশে বিপুল লোক সমাগম ঘটানোর জন্য দফায় দফায় সভা করেছে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ১৬ ডিসেম্বর জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র‌্যালির আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ২০ হাজার দলীয় নেতা-কর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল আমার। র‌্যালি শুরুর আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মতিয়ুর রহমান আমাকে ওই বিজয় র‌্যালিতে যেতে নিষেধ করেন। তখন আমি বলেছি, বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষে বিজয় র‌্যালিতে যেতে পারব না কেন। তখন তিনি বলেন, গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। আমি আচরণবিধির প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিজয় র‌্যালিতে যাইনি।

তিনি আরো বলেন, ২৪ ডিসেম্বর একই ইস্যুতে নগরীতে বিজয় সমাবেশ করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এই সমাবেশ সরকারদলীয় প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী সুবিধা দেয়ার চেষ্টা বলে আমি মনে করি। নির্বাচনের আগে এই বিশাল শোডাউন ভোটে প্রভাব বিস্তারের জন্যই করা হচ্ছে। তাই টেলিফোনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহফুজা আক্তারকে জানিয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে দেখবেন বলে জানিয়েছে। আমি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে জানাব।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীর হাজীগঞ্জ খেয়াঘাটে নির্বাচনী গণসংযোগ করেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। এ সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছে সিটি করপোরেশনের সরকারি লোকজন, ভোট চাইছে ঠিকাদাররাও। তাদের ভূমিকায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

অপরদিকে বুধবার রাত ৯টায় খেলাঘর সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সেলিনা হায়াত আইভী বলেন, আমি সরকার দলীয় প্রার্থী হয়েও কোণঠাসা অবস্থায় আছি। সুবিধা পাচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার। আমি বিশ্বাস করি দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে দীর্ঘ ১৮ বছর কাজ করেছি। নগরবাসী সেই কাজের মূল্যায়ন অবশ্যই করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত