বড়দিনে মহামারি থেকে মুক্তি ও মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি চেয়ে প্রার্থনা

আপডেট : ২৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৫৯ পিএম

করোনা মহামারি থেকে মুক্তি এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় ‘বড়দিন’ উদযাপন করছে দেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের খ্রিষ্ট ধর্মানুসারীরাও শনিবার যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আচারাদি, আনন্দ-উৎসব এবং প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ‘শুভ বড়দিন’ পালন করছেন।

তবে মহামারির কারণে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বড়দিনের আয়োজন চলছে জনসমাগম সীমিত রেখে; স্বাস্থ্য বিধি মেনে পালন করা হচ্ছে গির্জায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। মাস্ক ছাড়া কেউ গির্জায় ঢুকতে পারছে না, প্রার্থনা চলাকালেও সবাই মাস্ক পরে আছে।

শনিবার সকাল ৮টায় কাকরাইলের সেন্ট মেরিস গির্জায় প্রার্থনা শুরু হয়ে ৯টায় শেষ হয়। প্রার্থনায় যাযক বলেন, “বিশ্বব্যাপী সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি হোক। করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি ও যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলোর মানুষের শান্তি বজায় থাকুক।”

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি এবং জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকেও স্মরণ করা হয় প্রার্থনায়।

তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে সকাল ৭টায় শুরু হয় প্রার্থনা সভা। বিরতি দিয়ে আবার সকার ৯টায় শুরু হয়ে ১০টায় শেষ হয়। সেখানেও দেশের মানুষের শান্তি কামনা ও করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়।

মহাখালীর লুর্দের রানীর গির্জা, লক্ষ্মীবাজারের ক্রুশ ধর্মপল্লী, মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা গির্জা, মিরপুর-২ এর মিরপুর ক্যাথলিক গির্জা, কাফরুলের সেন্ট লরেন্স চার্চগুলো বড়দিন উপলক্ষে সেজেছে।

ক্রিসমাস ট্রি থেকে ঝুলছে আলোর মালা। বানানো হয়েছে খ্রিস্টের জন্মের ঘটনার প্রতীক গোশালা। সেই সঙ্গে বড় দিনের কেক তো আছেই।

খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিষ্ট এই দিনে (২৫ডিসেম্বর) বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেন বলেই তার অনুসারী-খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিকে ‘শুভ বড়দিন’ হিসেবে উদ্‌যাপন করে থাকে।

খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টি-কর্তার মহিমা প্রচারের মাধ্যমে মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতেই প্রভু যিশুর পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিল।

বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ সকলের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে শুক্রবার সন্ধ্যায় পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।

রাষ্ট্রপতি বাণীতে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীসহ সকলের জন্য অশেষ আনন্দ ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, ‘সবার জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক’।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকলে মিলে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি’ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। বাংলাদেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ আবাসভূমি।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত