বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় পালিত হয়েছে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। দিনটিকে ঘিরে গতকাল শনিবার দেশের খ্রিস্টান পল্লীগুলোতে ছিল সাজ সাজ রব। খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট এ দিনে ফিলিস্তিনের বেথলেহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানবজাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে যিশুর এ ধরায় আগমন ঘটেছিল। দেশের খ্রিস্ট ধর্মানুসারীরা যথাযথ ধর্মীয় আচার, আনন্দ উৎসব ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন:
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) : নানা আয়োজনে ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ১৮টি খ্রিস্টান পল্লীতে বড়দিন পালিত হয়েছে। গির্জা ও উপধর্মপল্লীগুলোকে সাজানো হয়েছিল দৃষ্টিনন্দন ঝলমলে আলোকসজ্জায়।
নবাবগঞ্জের হাসনাবাদ জপমালা রানীর গির্জার ফাদার স্ট্যানিসলাউস বলেন, ‘বড়দিনের প্রার্থনা হচ্ছে মানুষের মধ্যে যেন ভ্রাতৃত্ববোধ গাঢ় হয়, পৃথিবী থেকে যেন অস্থিরতা দূর হয়। সেই সঙ্গে করোনামুক্ত হোক পৃথিবী এমন প্রার্থনা ঈশ্বরের কাছে।’
হাকিমপুর (দিনাজপুর) : দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এবং করোনা মহামারী থেকে মুক্তির বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে বড়দিন উদযাপন করেছে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা। সকালে হিলির ছাতনি চারমাথা মোড়ে অবস্থিত প্রেরিত শিষ্য সাধু যোহনের জামতুলী গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়।
ময়মনসিংহ : সকালে নগরীর ভাটিকাশর এলাকার ক্যাথেড্রাল গির্জা হাউজে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। দেশবাসীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা পরিচালনা করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের ধর্ম প্রদেশের ধর্মপাল বিশপ পল পনেন কুবি। অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরাও অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া জেলার প্রতিটি গির্জায় রঙিন বাতিসহ বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়।
রাজশাহী : গত শুক্রবার রাত থেকেই রাজশাহীর ২১টি ধর্মপল্লীর গির্জায় শুরু হয় বিশেষ প্রার্থনা। রাজশাহী বিভাগের ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় প্রধান বিশপ জেভার্স রোজারিও বলেন, ‘উপাসনালয়ে যিশুখ্রিস্টকে স্মরণ করে প্রার্থনা করা হয়েছে। গোটা বিশ্বের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে। প্রার্থনা শেষে কেকসহ বিশেষ বিশেষ খাবারের নানান আয়োজন ছিল।’
শেরপুর : ওমিক্রন আতঙ্কে শেরপুরের ৭৪টি গির্জায় সীমিত পরিসরে কেবলমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিন পালিত হয়েছে। অন্যবারের মতো এবার কেক কাটা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রীতি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়নি। তবে সন্ধ্যায় বাড়ি বাড়ি কীর্তন ও প্রীতিভোজের আয়োজন ছিল।
