বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পাবনায় বিএনপির সমাবেশে দু’পক্ষে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনির আহমেদ ছুরিকাহত হয়েছেন। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতিতে ছয়জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। পরে পুলিশ উভয়পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, সোমবার দুপুরে শহরের লাহিড়ীপাড়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশ শুরু হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ এমপির বক্তব্য শুরু হলে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সুইট ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মনির আহমেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের থামানোর চেষ্টা করলেও সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় মনির আহমেদ ছুরিকাহত হলে লাঠিসোঠা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন কর্মীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয়পক্ষকে সরিয়ে দেয়। আহত মনির আহমেদ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পাবনায় বিএনপির সমাবেশে হাজার হাজার নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। দলের মধ্যে থাকা কিছু ষড়যন্ত্রকারী তা মেনে নিতে পারেনি। তারা পরিকল্পিত ভাবে ত্যাগী ও নির্যাতিত যুবনেতা মনিরকে আক্রমণ করেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের নিষেধও তারা শোনেনি। কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টি দেখছেন।
তবে মনির ছুরিকাহত হবার ঘটনাকে জুনিয়র ছাত্রনেতাদের ভুল বোঝাবুঝি বলে মন্তব্য করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সম্পাদক তসলিম হাসান সুইট।
তিনি বলেন, ছোট জায়গায় বড় সমাবেশ হওয়ায় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ছাত্রদলের ছেলেরা ঝগড়া করছিল। আমি ও মনির ভাই তাদের থামাতে চেষ্টা করছিলাম। এ সময় হঠাৎ কেউ তাকে ছুরি মেরেছে। আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি।
সুইট আরো বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারী শনাক্ত করতে পারবে আইনশৃংখলা বাহিনী। এ ঘটনায় আমি বা আমার কর্মীরা জড়িত নয়।
এর আগে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। তাকে বিনাদোষে সাজা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। আইনের অজুহাতে তাকে সুচিকিৎসা না দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করছে সরকার। অমানবিক এ আচরণের পরিবর্তন না হলে বিএনপি জনগনকে সঙ্গে নিয়ে এ সরকারের পতন ঘটাবে। বক্তারা দলীয় নেতাকর্মীদের রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ারও আহ্বান জানান।
