‘অপরিচিত যুবকের দেয়া চিঠিতে যা লেখা ছিল, তাই বলতে হয়েছে’

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:২২ পিএম

কক্সবাজারে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারী ও তার স্বামী-সন্তান রবিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। এর আগে তারা গত চার দিন ধরে টুরিস্ট পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারে ছিলেন। টুরিস্ট পুলিশের করে দেয়া টিকিটে তারা ঢাকায় ফিরেছেন। কক্সবাজারে অবস্থান কালে তাদের কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে দেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।

ঢাকায় ফিরে ওই নারী ও ধর্ষণ মামলার বাদী তার স্বামী একাধিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে তারা পুরো বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানান।

সোমবার সকালে মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশের তদন্তে তার আস্থা নেই। দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয়, তার জন্য তারা বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান। এ ব্যাপারে তারা শিগগিরই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে ওই দিনের ঘটনার সবকিছু প্রকাশ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ কয়েক দিন নানা চাপের মধ্যে তার স্ত্রীকে উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিতে হয়েছে। জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কক্সবাজার আদালতে মিথ্যা জবানবন্দিও দিতে হয়েছে।’

ভুক্তভোগী ওই নারী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কক্সবাজার থানার সামনে তার স্বামীকে হাতে লেখা একটি চিঠি ধরিয়ে দেন অপরিচিত কয়েকজন যুবক। তখন বলা হয়েছিল এভাবেই (চিঠিতে লেখা কথা অনুযায়ী) কথা বলতে হবে। নয়তো কারও প্রাণ থাকবে না। এরপর তিনি স্বামী-সন্তানের নিরাপত্তার কথা ভেবে শেখানো বুলিতে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জবানবন্দি দিতে তখন স্বামীও তাকে চাপ দেন।’

ওই নারী আরও বলেন, ‘সত্য হলো সন্ত্রাসী আশিকের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল না। আশিকের নেতৃত্বে প্রথমে ঝুপড়ির চায়ের দোকানে এবং পরবর্তী সময়ে হোটেল জিয়া গেস্ট ইনে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন কয়েকজন। এ সময় আশিকসহ অন্যরা তাকে বর্বর নির্যাতন ও মারধর করেন।’

ধর্ষণের এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান ভুক্তভোগী নারী, যেন সৈকত ভ্রমণে এসে অন্য কারও এই পরিণতি না হয়।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দেয়ার বিষয়ে মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী বলেন, ‘একবার নয়, তিন দফায় তিনি ৯৯৯-এ কল দিলেও সহযোগিতা পাননি। পরে তিনি র‍্যাবকে কল দেন। র‍্যাবই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।’

উল্লেখ্য, ২৩ ডিসেম্বর রাতে ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় সন্ত্রাসী মো. আশিক (২৮), মো. বাবু (২৫), ইসরাফিল হুদা ওরফে জয় (২৮), রিয়াজ উদ্দিন ওরফে ছোটন (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২২ ডিসেম্বর বিকেলে স্বামী ও ৮ মাসের শিশুসন্তানকে নিয়ে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে নামেন ওই নারী। বালুচর দিয়ে হেঁটে পানির দিকে নামার সময় তার স্বামীর সঙ্গে সামান্য ধাক্কা লাগে আশিকের। এর জের ধরে সন্ধ্যায় পর্যটন গলফ মাঠ এলাকা থেকে ওই নারীকে তুলে নিয়ে প্রথমে ঝুপড়ির একটি চায়ের দোকানে এবং পরে কলাতলীর একটি হোটেলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন আশিকের নেতৃত্বে কয়েকজন।

রবিবার রাতে মাদারীপুর থেকে মামলার প্রধান আসামি আশিককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তার বাড়ি কক্সবাজার শহরের মধ্যম বাহারছড়া এলাকায়। এ নিয়ে মামলায় মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মোহাম্মদ ফারুকী এই মামলার গ্রেপ্তার তিনজনের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন, কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার রেজাউল করিম শাহাবুদ্দিন (২৫), চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারার উলুবনিয়া এলাকার মামুনুর রশীদ (২৮) ও কক্সবাজার শহরের পশ্চিম বাহারছড়া এলাকার মেহেদী হাসান (২১)।

এর আগে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন মামলার এজাহারভুক্ত আরেক আসামি, হোটেল জিয়া গেস্ট ইনের ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন ছোটন। শনিবার তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত