খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) লালন শাহ হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
তার মৃত্যুর ২৮দিন পর কুয়েটের প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় উপাচার্য কাজী সাজ্জাদ হোসেনের নিকট ৪৮ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সব বিষয় তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সদস্যসচিব প্রফেসর ড. মো. আলহাজ উদ্দীন, সদস্য প্রফেসর ড. খন্দকার মাহবুব হাসান, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি সহকারী কমিশনার দেবাশীষ বসাক এবং কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. শাহাবুদ্দীন।
জানা যায়, প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনকে মানুষিক নিপীড়ন করার পর গত ৩০ নভেম্বর তিনি মারা যান। এরপরের দিন ১ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় জানাজা শেষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার লাশ কবর তুলে ময়নাতদন্ত করা হয়।
প্রফেসর সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর উত্তপ্ত হয়ে উঠে ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৯জন ছাত্রকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পাশাপাশি, ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্যাম্পাস বন্ধ এবং শিক্ষকের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ৩ ডিসেম্বর থেকে তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু করার কথা থাকলেও ৫ ডিসেম্বর থেকে তদন্তকাজ শুরু হয়। এরপর ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কমিটি আরও ১০দিনের সময় চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৭ দিনের সময় বেঁধে দেন।
সর্বশেষ ২৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় অতি দ্রুত প্রফেসর সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দাখিল করার জন্য বলা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। আগামী ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ৯ জানুয়ারি থেকে সকল একাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, শিক্ষকের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো আসেনি। সময় লাগবে। মামলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা আসেনি।
কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, আমরা স্যারের মৃত্যুর পর ৫টি দাবি করেছিলাম। তার মধ্যে প্রথম দাবি ছিল সন্দেহজনক জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার করা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটি করেছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। এরপর শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- সকল দায়-দেনার বাইরে শিক্ষকের পরিবারকে ১ কোটি টাকার আর্থিক সহযোগিতা করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শনাক্তপূর্বক ক্যাম্পাস থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা। স্থায়ী বহিষ্কার না করা পর্যন্ত শিক্ষক সমিতির সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। ক্যাম্পাস থেকে ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং সর্বশেষ দাবি ছিল শিক্ষক মৃত্যুর বিষয়টি আইনিভাবে বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করা।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমাদ বলেন, আজ মঙ্গলবার তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে তদন্ত কার্যক্রম করা হয়েছে।
