খালেদা জিয়ার কিছু হলে হত্যা মামলা করা হবে: ফখরুল

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০১:১৭ পিএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারের লোকজনের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সরকার জেনেশুনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অথচ সরকার আইনের অজুহাতে তাকে বিদেশে চিকিৎসা দিতে চাচ্ছে না বরং তারা বিনা চিকিৎসায় খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায়।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে দেশের গণতন্ত্র হত্যার প্রধান নায়ক আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ যখন দেখে জনগণ তাদের ভোট দেবেন না, তখন তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। আর এতে প্রধান নায়কের ভূমিকায় ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক। তাই ভবিষ্যতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হলে বিচারপতি খায়রুল হকের বিচার করা হবে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায় তারা তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নে মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রেখেছেন।

ফখরুল বলেন, ‘আজ গণতন্ত্র হত্যা দিবস এই দিনে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি পাতানো কৌশলে এক দলীয়ভাবে নির্বাচন হয়েছিল শুধুমাত্র একটি দলকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে। অথচ দেশের সকল রাজনৈতিক দল সেই নির্বাচন বর্জন করেছিল।’

তিনি বলেন, জাতিসংঘ কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপি আওয়ামী লীগের আলোচনা হয়েছিল তখন আওয়ামী লীগ বলেছিল বাধ্যবাধকতার কারণে তাদেরকে নির্বাচন করতে হচ্ছে। নির্বাচনের পর অতি দ্রুত সব দলের অংশগ্রহণে আরেকটি নির্বাচন দেওয়া হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ তাদের ওয়াদা পালন করেনি। বরং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত