সাংবাদিক-কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে ভোট কেন্দ্রে আগুন, গুলি-বোমা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:৪০ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় ককটেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ও গুলি ছুড়ে কেন্দ্র দখল করা হয়। সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে হামলা চালানো হয়।

যমুনা টেলিভিশন প্রতিবেদক কাজী মনিরুজ্জামান, কালেরকণ্ঠের প্রতিনিধি শরীফুল আলম ইমন ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জাকারিয়া মাসুদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

অভিযোগ উঠেছে, চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকেরা এ হামলা করেছেন। পরে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সময় নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করা ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, বুধবার সকালে নড়িয়ার ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শহীদুল ইসলাম সিকদার (আনারস), এমদাদ সিকদার (ঘোড়া), রুনা আক্তার (টেলিফোন), দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারী (চশমা), এনামুল হক ব্যাপারী (মোটরসাইকেল), শাহীন হাওলাদার (হাতপাখা) ও আলাউদ্দিন ছৈয়াল (লাঙল) ।

দোলোয়ার হোসেন ব্যাপারী সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক ও নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হকের চাচাতো ভাই।

দুপুর সোয়া ২টার দিকে ২২ নম্বর দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা করে দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা। তারা ককটেল বোমা হামলা ও গুলি করে ভোটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর পর ভোট কেন্দ্র দখল করে তিনটি ভোট বাক্স, ৩ হাজার ব্যালট ও নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এরপর বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে ভোট কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, আনসার সদস্য ও ভোটাররা ওই কক্ষে আটকা পরে। তারা দরজা ভেঙে সেখান থেকে প্রাণে বাঁচেন। এ সময় ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সেখানে উপস্থিত ডেইলি স্টারের প্রতিবেদক এমরুল হাসান বাপ্পী, যমুনা টিভির সাংবাদিক মনিরুজ্জামান, কালেরকণ্ঠের সাংবাদিক শরীফুল আলম ইমন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সত্যজিৎ ঘোষ ও মানবাধিকার খবরের সাংবাদিক হেমন্ত দাস- প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে আটকা পড়েন। তাদের কক্ষে ককটেল বোমার হামলা ও গুলি করা হয়।

কেন্দ্রে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়ে কেন্দ্র রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাদের গুলি শেষ হয়ে গেলে তারাও পিছু হটে আত্মরক্ষা করেন। এর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুজন দাস গুপ্তর নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা অবরুদ্ধদের উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্কুল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলাকারীরা অন্তত ৮ নারী আনসার সদস্য ও নারী ভোটারদের গহনা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

নারী আনসার সদস্য তরিকত নেছা বলেন, বোমা ও গুলির কারণে কেন্দ্রের ভেতর আশ্রয় নিই। পরে ভোট বাক্স, ব্যালট ছিনিয়ে নেয়ার পর স্কুল ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আমাদের মারধর করে গহনা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।

৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী ইকবাল সিকদার বলেন, হামলার সময় কেন্দ্রের মধ্যে আটকা পড়ি। বাইরে থেকে কক্ষ আটকে দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিলে আমরা আতঙ্কিত হই। জানালা ভেঙে প্রাণে বাঁচি।

চেয়ারম্যান প্রার্থী শহীদুল ইসলাম সিকদার (আনারস) বলেন, দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর সমর্থকেরা ভোট বানচাল করার জন্য তিনটি কেন্দ্রে হামলা চালায়। সকাল থেকে ককটেল হামলা করে আতঙ্ক ছড়ায়।

চেয়ারম্যান প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ব্যাপারীর (চশমা) সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাতিজা ইমরান ব্যাপারী বলেন, ওইখানে মেম্বর প্রার্থী দেলোয়ার মেম্বার ও ইমরান শেখের পূর্ব থেকেই দ্বন্দ্ব চলছে। তাই আজ ওরা সংঘর্ষে জড়ায়। যেহেতু কেন্দ্রটি আমাদের বাড়ির সামনে, চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে সংঘর্ষের কোনো কারণ নেই।

নড়িয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি সংকর কর বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসার বাদী হয়ে মামলা করলে মামলা নেয়া হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ভোজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দুলুখন্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। তাই কেন্দ্রটির ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে পরবর্তী সময় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত