গাজীপুরে ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রটিতে মূলত চিকিৎসার নামে রোগী আটকে রেখে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করাই ছিল প্রতিষ্ঠান মালিকের মুখ্য উদ্দেশ্য। র্যাবের অভিযানে আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযানে মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিকসহ ৫ আটকের বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে সদর মেট্রো থানায় র্যাবের পক্ষ থেকে মামলা করার পর আসামিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাফিউল ইসলাম রাফি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের মালিক লালমনিরহাট জেলার ফিরোজা নাজনীন ওরফে বাঁধন (৩৫), গাজীপুর জেলার মনোয়ার হোসেন ওরফে সিপন (৩১), একই জেলার মো. রায়হান খান (২০), টাঙ্গাইল জেলার দিপংকর শাহ ওরফে দিপু (৪৪) ও জাকির হোসেন আনন্দ (২৭)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪২০ পিছ ইয়াবা, নির্যাতনে ব্যবহৃত লাঠি, স্টিলের পাইপ, হাতকড়া, রশি, গামছা, খেলনা পিস্তল ও কথিত সাংবাদিকের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।
বুধবার দুপুর ১টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
এ ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন।
চিত্রনায়ক অভি এই মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে আসা ও ভর্তির বিষয়ে র্যাব জানান, দেশে করোনাকালীন সময়ে চলচ্চিত্রের কার্যক্রম স্থবির থাকায় অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি কিছুটা মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন শুরু করলে তার আচরণে কিছুটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হওয়ায় ২০২১ সালের মার্চ মাসে তার মা চিকিৎসার জন্য তাকে ভাওয়াল মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসেন এবং মালিক বাধঁনের কথামত তার মা তাকে সেখানে ভর্তি করান।
পরে তার মা ছেলের চিকিৎসা বাবদ ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসা খরচ বাবদ প্রদান করেন। মূলত চিকিৎসার নামে তাকে আটকে রেখে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করাই ছিল ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রের মুখ্য উদ্দেশ্য।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তার ফিরোজা নাজনীন ওরফে বাঁধন তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর সিপনের সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহে বসেন। সিপন তার সঙ্গে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে বসবাস করত। কিন্তু তাদের বিবাহের কোনো বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি বাঁধন।
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সমিতির’ পক্ষ থেকে র্যাব-২ এর নিকট অভিযোগ করা হয়, একজন চিত্রনায়ক দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তীতে তারা জানতে পারেন, ওই চিত্রনায়ককে গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আটক রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব সেখানে অভিযান চালায়।
