বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ০২:০৯ এএম

পারিবারিক জীবন রক্ষার স্বার্থে বহুবিবাহ আইনের বিষয়ে নীতিমালা কেন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্ত্রীদের মধ্যে সমঅধিকার নিশ্চিত ব্যতিরেকে আইন অনুসারে বহু বিবাহের অনুমতির প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না সেটিও জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের দুই সচিব এবং ধর্ম সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। আবেদনের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

আবেদনের বরাতে আইনজীবী জানান, ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী বর্তমান স্ত্রী থাকাবস্থায় পুরুষের একাধিক বিয়ের বিধান রয়েছে। পবিত্র কোরআনে সব স্ত্রীর সমানাধিকার নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের ৬ ধারায় বহু বিবাহ সংক্রান্ত বিধানে সব স্ত্রীর সমানাধিকার নিশ্চিতের যে বিষয় সেটি উপেক্ষিত। এছাড়া বহু বিয়ে নিয়ে সালিশি কাউন্সিলকে অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যা বর্তমান স্ত্রীর সাংবিধানিক ও পারিবারিক অধিকারকে ক্ষুণœ করে।

আইনজীবী ইশরাত হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, একাধিক বিয়ের বৈধতা থাকলেও ইসলামে বলা হয়েছে, সব স্ত্রীর প্রতি সমানভাবে সুবিচার করতে হবে। শুধু বিয়ে করলেই হবে না। স্বামীর বিয়ে করার মতো আর্থিক সংগতি রয়েছে কি না, স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সামর্থ্য আছে কি না সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিবেচনায় নেওয়া হয় না। ফলে নারীর সাংবিধানিক ও পারিবারিক উভয় অধিকারই ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, বেশকিছু দেশে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে হয়। আদালত সমন দেন, সাক্ষীদের ডাকেন। বিয়ের কারণ সম্পর্কিত বিষয়টি সত্য না মিথ্যা সেটি যাচাই করেন।

ইশরাত বলেন, ‘আমাদের মনে হয়, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলকে এ বিষয়ে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যেখানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের হাতে এ বিষয়ে অনেক ক্ষমতা। কিন্তু যাচাই করার মতো যথেষ্ট সুযোগ চেয়ারম্যানের নেই। শুধু তাই নয়, চেয়ারম্যান যদি একাধিক বিয়ে করতে চান তিনি কার কাছ থেকে অনুমতি নেবেন? তাকে তো নিজেকেই নিজের কাজে অনুমতি দিতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত