নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজদের সন্ধান মেলেনি এখনো। বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান শুরু করছে ফায়ার সার্ভিস। তাদের সাথে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়েছে নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দল।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। তবে এখনো জীবিত বা মৃত কাউকে উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলম হোসেন জানান, ভোর থেকে নদীতে প্রচুর পরিমাণে কুয়াশার কারণে উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা নদীতে কয়েকটি ভাগে উদ্ধার অভিযান করছি।
নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও নদীতে নেমেছে। তবে এখনো ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি করো মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি।
এদিকে ধলেশ্বরী নদীর তীরে নিখোঁজদের স্বজনরা তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য অপেক্ষা করছে। বারবার আহাজারি করে প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে চাচ্ছেন। ভোর থেকে এ নদীর তীরে অসংখ্য মানুষ আসতে থাকে। তাদের মধ্যে কারও সন্তান, কারও ভাই এবং নিজের সহকর্মীর সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন বক্তাবলী এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন, নেয়ামতপুর এলাকার আব্দুল্লাহ, চর মধ্য নগরের জিয়াসমিন আক্তার ও তার মেয়ে তাসমিন আক্তার, ছেলে তামিম এবং দুই বছরের ছোট্ট শিশু তাসফিয়া।
তাছাড়াও এ দুর্ঘটনায় উত্তর গোপাল নগর এলাকার মোতালেব মিয়া ও একই এলাকার মসজিদের মোয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ ও ৬৫ বছর বয়সী হকার শামসুদ্দিন নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে ট্রলারটিকে ডুবিয়ে দেয়া এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি জব্দ করে লঞ্চের চালক মাস্টারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ।
বুধবার রাতে নৌ নিরাপত্তা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- এম ভি ফারহান-৬ যাত্রীবাহী লঞ্চের মাস্টার মো. কামরুল হাসান, ড্রাইভার মো. জসিমউদ্দিন ভূইয়া ও সুকানি মো. জসিম মোল্লা।
বুধবার চারজনকে গ্রেপ্তার করে নৌ পুলিশ। তাদের মধ্যে উল্লেখিত তিনজনকে আসামি করা হয়। একজনকে ছেড়ে দেয় নৌপুলিশ।
নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মিনা আক্তার জানান, ধলেশ্বরীতে যাত্রীবাহী ট্রলারটি ডুবিয়ে দেয়া এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটি চালক, মাস্টার ও সুকানিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সদর ঘাটে জব্দ করা হয়েছে লঞ্চটি।
উল্লেখ্য, বুধবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে এমভি ফারহান-৬ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চটির ধাক্কায় অন্তত ত্রিশজন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ট্রলারটি। অনেকে সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ হন ৮ জন। সারা দিন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পায়নি ঘন কুয়াশা ও অন্ধকারের কারণে রাত ৭টার দিকে প্রথম দিনের উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়।
