নির্বাচনে হেরে নিজের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য প্রার্থী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের রামরাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মো. মানিকুর রহমান মানিক নামে ওই প্রার্থী ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
বুধবার ওই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফল ঘোষণার পর পরেই তিনি পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, তার নিজের পরিবারে ভোটার সংখ্যা ৬ জন। কিন্তু তিনি সর্বসাকল্যে ভোট পেয়েছেন ৩টি। আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মানিকের বাড়ি ওই ইউনিয়নের বিজেশ্বর গ্রামে।
মানিক মনে বলেন, আমার মা এবং স্ত্রী আমাকে ভোট দিয়েছেন। পরিবারের আর কেউ দেয়নি। এমনকি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা আমার পোলিং এজেন্টরাও ভোট দেননি।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি একান্নবর্তী পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রামরাইল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে ৭ জন মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন টানা ৩ বারের নির্বাচিত মেম্বার আতিকুর রহমান। তার ভাতিজা মো. মানিকুর রহমান মানিকও আপেল প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হন। তবে শেষ পর্যন্ত সিলিং ফ্যান প্রতীকের লুক্কু মিয়া এই ওয়ার্ডে বিজয়ী হন।
জানা যায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২টি ভোটকেন্দ্র। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২০৮৬ জন। বুধবারের নির্বাচনে দুটি ভোটকেন্দ্রে মোট ১৪২৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে লুক্কু মিয়া ৪৫১ ভোট পেয়ে মেম্বার পদে বিজয়ী হন। বর্তমান মেম্বার মানিকের চাচা আতিকুর রহমান পেয়েছেন ২০৮ ভোট।
এ বিষয়ে তার চাচা আতিকুর রহমান জানান, মানিক নির্বাচন করায় মানুষ দ্বিধায় পড়েছিল। ফলে তার ভোট কমে গেছে। তবে, ভাতিজার প্রতি তার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই।
