চট্টগ্রামে মানববন্ধনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ নেতাসহ ৭৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটক ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং বাকি ২৬ জনকে পলাতক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার রাতে নগরীর কোতোয়ালি থানার এসআই মেহেদী হাসান শুভ বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
মামলায় চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান এবং নগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তিসহ ৭৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ঘটনায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দীন।
তিনি বলেন, মানববন্ধন থেকে পুলিশের ওপর হামলা, কর্তব্যে বাধাদান এবং পুলিশের সম্পদ বিনষ্টের অভিযোগে ৭৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটক ৪৯ জনকে আসামি ও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বাকি ২৬ আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন উপলক্ষে গত বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান করে চট্টগ্রাম মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি। দীর্ঘ সময় পর বিএনপির এই কর্মসূচিতে বিএনপির হাজারের বেশি নেতা কর্মী অংশ নেন। নগরী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চল থেকে মিছিল সহকারে বিএনপি নেতা কর্মীরা একে একে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কের একপাশ বন্ধ করে সেখানেই নেতা কর্মীরা বসে পড়েন। পরে অনুষ্ঠান শুরু পরপরই সড়কের উভয়পাশ বন্ধ করে দেয় বিএনপি নেতা কর্মীরা। এতে জামালখানসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তখন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন অলিগলিতেও অবস্থান নেন।
এ সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ সেখানে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা করেন। পুলিশ তখন সড়কে জটলা করে থাকা নেতা কর্মীদের সরে যেতে বললে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা কর্মীদের ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশ মারমুখী হয়ে সড়কে ওপরে থাকা নেতা কর্মীদের ওপর লাঠিপেটা করেন। এতে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জন আহতের খবর পাওয়া যায়।
পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাদের দ্রুত প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে জামালখান হয়ে কাজিরদেউরির দিকে চলে যান।
তবে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে ৪৯ জনকে আটক করে পুলিশ।
