যে তিন কারণে দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে ওমিক্রন

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:৫১ পিএম

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে। করোনার এই রূপটিকে প্রায় ঠেকিয়ে রাখাই যাচ্ছে না। তবে কারও কারও মত, এভাবে সংক্রমণ বাড়ায় নাকি সুবিধা হচ্ছে মানুষের। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ছে তাতে। যদিও চিকিৎসকরা এই মতের সঙ্গে একমত নন। তাঁদের মতে, ওমিক্রনকে হাল্কা ভাবে নিলে সকলেই ভুল করবেন। কারণ এর পরবর্তী পর্যায়ে ওমিক্রনের হাত ধরে কোন সমস্যা আসতে পারে, কেউ জানেন না।

একই মত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থারও। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভিড গবেষকদলের প্রধান মারিয়া ভ্যান কেরখোভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লাগামছাড়া ভাবে ওমিক্রনে সংক্রমণ হওয়াটা মোটেই কোনও কাজের কথা নয়। বরং এটাকে আটকে রাখা উচিত। 

কিন্তু কীভাবে ওমিক্রন সংক্রমণ ঠেকানো যাবে? মারিয়ার মতে, তার জন্য বুঝতে হবে, ঠিক কী কী কারণে ওমিক্রন এত বাড়ছে। তাঁর মতে, এর পেছনে রয়েছে, তিনটি কারণ। এই কারণগুলির জন্য এত দ্রুত বাড়ছে ওমিক্রনের সংক্রমণ। দেখে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী:

অনেক মিউটেশন হয়েছে কোভিডের। নতুন রূপটি এখন সহজেই মানুষের শরীরের কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। এবং সহজেই শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘Immune Escape’ বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা তা পেয়ে গেছে ওমিক্রন। এর অর্থ, এখন করোনার এই রূপটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহজেই পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। হালে কোভিডে সংক্রমিত হলেও শরীরে যে অ্যান্টিবডি থাকে, তাকে ফাঁকি দিতে পারে এই ওমিক্রন। এমনকী টিকা নেওয়া থাকলেও, তার অ্যান্টিবডিকে ফাঁকি দিতে পারছে এটি।

এটি Upper Respiratory Track বা শ্বাসনালীর ওপরের অংশে সংক্রমিত হচ্ছে। করোনার অন্য রূপগুলি ফুসফুসে বেশি মাত্রায় ছড়াতো। ফলে এক জনের থেকে অন্য জনে পৌঁছোতে যতটা সময় লাগত, ওমিক্রনের ক্ষেত্রে লাগছে তার চেয়ে অনেক কম সময়।

মূলত এই তিনটি কারণেই ওমিক্রন এত দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মত মারিয়ার। তাছাড়া উত্তর গোলার্ধে এখন তীব্র শীতকাল। ফলে বাড়ির ভেতরে কাছাকাছি সময় কাটানোর পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। তাই বাড়ছে সংক্রমণ।

করোনাভাইরাসের সবচেয়ে সংক্রামক ধরনের স্বীকৃতি পাওয়া ওমিক্রনের প্রভাবে বিশ্বে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০ কোটি ছাড়িয়েছে। তারমধ্যে শুক্রবার বিশ্বজুড়ে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ জন।

এছাড়া, ২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাণঘাতী এই রোগে বিশ্বজুড়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৯১ জনের। তার মধ্যে শুক্রবার মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৬৫ জন।

মহামারির দুই বছরের মধ্যে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩০ কোটি ছাড়িয়েছে। তারমধ্যে শেষ ১০ কোটি শনাক্তে সময় লেগেছে মাত্র ৫ মাস।

মহামারির শুরু থেকেই করোনায় মোট আক্রান্ত-মৃত্যুর হিসেবে বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবারও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত-মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সেই দেশেই।

মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এ রোগে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হালনাগাদ সংখ্যা প্রকাশকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫০২ জন এবং এ রোগে মারা সেখানে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ২৫ জনের।

এছাড়া, এইদিন বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে লাখের ঘর। এই দেশগুলো হলো- ফ্রান্স (নতুন আক্রান্ত ৩ লাখ ২৮ হাজার ২১৪, ‍মৃত্যু ১৯৩), যুক্তরাজ্য (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫০, মৃত্যু ২২৯), ভারত (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৭৪, ‍মৃত্যু ১৫), স্পেন (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০০, ‍মৃত্যু ১৫), আর্জেন্টিনা (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ১০ হাজার ৫৩৩, মৃত্যু ৪২) ও ইতালি (নতুন আক্রান্ত ১ লাখ ৮ হাজার ৩০৪, ‍মৃত্যু ২২৩)।

বিশ্বজুড়ে সক্রিয় করোনা রোগীর সংখ্যা বর্তমানে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ২৩ হাজার ৩৫৬ জন। এই রোগীদের মধ্যে কোভিডের মৃদু উপসর্গ বহন করছেন ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ জন এবং গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আছেন ৯৩ হাজার ১২৮ জন।

এছাড়া, শুক্রবার করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ১০৩ জন। এই নিয়ে মহামারির দুই বছরে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা মোট ব্যক্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ২৫ কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ৩২৬ জনে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিশ্বের প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনায় প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটিও ঘটেছিল চীনে।

তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় অবশেষে ওই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত