অবশেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার গাড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে ১৪৪ ধারা ভেঙে করা জেলা বিএনপির সমাবেশে যোগ দিয়েছেন এই সাংসদ।
এর আগে আজ দুপুর ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের টোলপ্লাজা এলাকায় রুমিন ফারহানার গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। এরপর গাড়িসহ তাকে আশুগঞ্জের উজান ভাটি হোটেলে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, রুমিন দুপুরের খাবারের পর ঢাকায় রওনা করবেন।
রুমিনের বিএনপির সমাবেশে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন।
এর আগে রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসার পথে ভৈরব টোল প্লাজায় তাকে এক ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। অনেক কথা-কাটাকাটির পর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু (ভৈরব-আশুগঞ্জ সড়ক সেতু) দিয়ে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলার দিকে রওনা হন। পরে আশুগঞ্জে সেতুর ওপরই পুলিশ আবার তাকে আটক করে। মূলত পুলিশ তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেতে দিচ্ছে না।
উল্লেখ্য, বিএনপি ও ছাত্রলীগ একই স্থানে সমাবেশ ডাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টারসংলগ্ন এলাকায় শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
তবে দুপুর সাড়ে ১২টার পর শহরের উপকণ্ঠে বটতলী বাজার এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপির নেতা কর্মীরা। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন।
এদিকে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলেও মাঠে নামেনি ছাত্রলীগ। এর আগে আরও কয়েকটি জেলায় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনগুলো পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা দিলে বিএনপির সমাবেশে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমরানুল ইসলাম বলেন, ১৪৪ ধারা জারিকৃত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আশুগঞ্জ থানার ওসি আজাদ রহমান বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিএনপির ওই নেত্রীকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া করে তিনি ঢাকা ফিরে যাবেন।
