একান্ন বছরে পদার্পণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৫২ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আজ। পঞ্চাশ পেরিয়ে একান্ন বছরে পদার্পণ করলো দেশের একমাত্র আবাসিক এ বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণায় জোর দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে রাজধানীর অদূরে নিরিবিলি ও মনোরম পরিবেশে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

একান্ন বছরে অর্জনের পাশাপাশি না পাওয়ার তালিকাও দীর্ঘ। এখনও আবাসিক চরিত্র ফিরিয়ে আনতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। যে লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা, সেই গবেষণাই পর্যাপ্ত হয়নি বলে দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট। পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের সাথে সাথে শিক্ষার মান বাড়েনি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সব মিলিয়ে দেশের অন্য শিক্ষাঙ্গনের থেকে ব্যতিক্রম হতে পারেনি জাহাঙ্গীরনগর। এখানেও ছাত্ররাজনীতির নামে সহিংসতা, শিক্ষক রাজনীতির নামে দলীয় লেজুড়বৃত্তি, দলীয় পরিচয়ে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশাসনিক দুর্নীতি ও অনিয়মের মতো অভিযোগের শেষ নেই। তবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা নানা ক্ষেত্রে সাফল্য বয়ে এনেছেন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রত্নতত্ত্ব এবং নাটক ও নাট্যতত্বে রয়েছে নানা সাফল্য।

চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা জাবির এখন ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউট রয়েছে। এসব বিভাগে সাত শতাধিক শিক্ষক রয়েছেন। আর শিক্ষার্থী রয়েছেন পনেরো হাজারের বেশি। বিগত বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে।

১৬টি হলের সাথে শিগগিরই যোগ হবে নতুন আরও ছয়টি হল। এই ছয়টি হলের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। হলগুলো চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয় তার আবাসিক চরিত্র ফিরে পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গ্রন্থাগার, লেকচার থিয়েটার, স্পোর্টস কমপ্লেক্স, শিক্ষক কোয়ার্টারের মতো ভবন তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে নজর নেই। পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দ নেই গবেষণায়। শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে জাবিতে বাজেটের আকার ছিল ২৬৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল মাত্র ৪ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে গবেষণায় বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি টাকা। এই বরাদ্দকে অপ্রতুল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে ৫টি অনুষদে মোট ২৯২টি গবেষণা প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩৪টি বিভাগ ও ৪টি ইনস্টিটিউটে ওই শিক্ষাবর্ষে মোট ৫৫১টি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এক রকম সরকারের সমর্থক তৈরির কারখানা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এখান থেকে নতুন নতুন গবেষণা হওয়ার কথা। সরকারের নানা বিষয়ের নীতিমালা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এ জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য আগ্রহ, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং তার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতরে যতটুকু গবেষণার সুযোগ থাকা উচিত সেখানেও উদ্যোগের অভাব রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত