ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ কুকুরের কামড়ে আহত দেড় শতাধিক, পরে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ০৬:১৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের নয়নপুর, পুনিয়াউট, পৈরতলা, মধ্যপাড়া, দক্ষিণ পৈরতলা বাসস্ট্যান্ড, সরকার পাড়া, বনিকপাড়াসহ কয়েটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শহরের একাংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে ৭৫ জন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। উত্তেজিত জনতা ওই কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

দক্ষিণ পৈরতলা বাস্ট্যান্ডের বি.বাড়িয়া এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রেতা আরমান (৩৭) জানান, আমি টিকিট বিক্রি করে কাউন্টারের সামনে দুপুরের দিকে দাঁড়ানো অবস্থায় একটি কুকুর হঠাৎ পায়ে দুটো কামড় দেয়। আমি কুকুরটিকে ছাড়াতে গেলে হাতেও কামড় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে আমি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়েছি।

দক্ষিণ পৈরতলা গ্রামের গৃহবধূ দোলন মল্লিক(২৮) জানান, ব্যাংকের কাজ সেরে বাড়ি যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পেছন থেকে একটি কুকুর এসে আমার পায়ের ওপরের অংশে কামড় বসায়। আমি দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে সেটি চলে যায়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত একটি পাগলা কুকুর শহরের কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে কামড়ে আহত করেছে। পরে উত্তেজিত জনতা কুকুরটিকে পিটিয়ে মেরেছে। আহতরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফাইজুর রহমান ফয়েজ জানান, বুধবার দুপুর থেকে পাগলা কুকুরের কামড়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন প্রচুর মানুষ। একপর্যায়ে হাসপাতাল ভরে যায়। আমরা সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দিয়েছি। হাসপাতালে যথেষ্ট ভ্যাকসিন সরবরাহ আসায় আক্রান্তদের সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে না।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রানা নূরুস শামস বলেন, জেলা সদর হাসপাতাল থেকে বুধবার দেড় শ জন মানুষ কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নিয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ একরাম উল্লাহ জানান, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা আছে। আহতদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনমতো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত