নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার ৬ ঘণ্টা পর ফের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এটিএম কামালের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। আমার লোকদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর মাসদাইরস্থ নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সদ্য সাবেক উপদেষ্টা তৈমূর বলেন, যাদের কাছে আমাদের অভিযোগ করার কথা তারাই নির্বাচনকে কলুষিত করছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। আমার বাসার সিসিটিভি ফুটেজ চেক করেন এবং যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের দেখেন। দেখবেন তাদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত থেকে আমি কাগজ নিয়ে এসেছি। গত বছরের হেফাজতের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তৈমূর বলেন, যারা আমার নির্বাচনের নানা কাজের দায়িত্বে আছে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সকলকেই হেফাজতের মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডিসি এসপি সাহেব বলে আমি অভিযোগ করিনি। এখানে সই করা কাগজ আছে আমার কাছে। ঘণ্টাখানেক আগে আমার চিফ এজেন্ট এটিএম কামালের বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হাই রাজুর বাড়িতেও তারা গেছে এ রকম যে আমাকে সমর্থন করছে তার বাড়িতেই যাচ্ছে। আমরা এতে ভীত না। আমরা মাঠে থাকব। আমার মৃত্যু হলে নির্বাচনের মাঠেই হবে।
আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইভী বলেছে নারায়ণগঞ্জে কোনো বহিরাগত নেই। তৈমূরের বাড়ি রূপগঞ্জ থেকে লোক আসে। আইভীর সমাবেশে রূপগঞ্জ, আড়াইহাজারের এমপিরা নেতৃত্ব দিয়েছে। ছবিই তো তার সঙ্গে যে বহিরাগতরা আছে তা প্রমাণ করেছে। এটিএম কামাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে পুলিশ যাবে কেন। আমি যখন নাম দিয়েছি তখন তো বলতে পারত সে সন্ত্রাসী তাকে এজেন্ট দিয়েন না। আপনারা ভয় পাবেন না। আমার নেতা কর্মীরা মাঠে থাকবে আমিও মাঠে থাকব। আমরা মাঠে থেকে প্রতিরোধ করব।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে তৈমূর বলেন, আমি বহুবার অভিযোগ করেছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজকে বলেছে চারদিকে ষড়যন্ত্র, আমি একা হয়ে যাচ্ছি। এর মানে তার জনসমর্থন নেই। তাদের একমাত্র ক্ষমতা মামলা। দুই টাকার বলপেন চার আনার কাগজ আর মামলাই তাদের এখন মূল ভরসা। আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা আছে। আমি দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে জেল খেটেছি। কামাল কী মাদক ব্যবসায়ী না সন্ত্রাসী? নির্বাচন কমিশন তাদের কমিটমেন্ট ঠিক আছে না নেই তা কালকে দেখবেন। রাজনীতি করতে পদ লাগে না। জনসমর্থন লাগে, কর্মী বাহিনী লাগে। বাধা দিলে বাধবে লড়াই। এটা অনেক পুরোনো স্লোগান। বাঙালি প্রতিরোধ করবে।
এদিকে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তৈমূর আলমের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এটিএম কামালের ছেলে নাহিন মুজতবা জানান, ‘বিকেলে আমাদের বাসার নিচতলায় স্থাপন করা নির্বাচনী ক্যাম্পে এসেছিল ডিবি ও পুলিশের ১০-১২ জন সদস্য। তারা এসে আমার বাবার অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে পরে চলে গেছে। বাসার সবাই এখন আতঙ্কিত।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল হাওলাদার বলেন, ‘এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। আমাদের থানা থেকে এমন কোনো নির্দেশনা সদস্যদের দেওয়া হয়নি।
