মা ফেরেনি ঘরে, অপেক্ষায় থাকতে থাকতে মারা গেল ক্ষুধার্ত বাচ্চারা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১০:৩৭ পিএম

দেখলে মনে হয় জড়াজড়ি করে শুয়ে আছে দুইটি বনবিড়ালের বাচ্চা যদিও পাশেই আরেকটি বাচ্চার গায়ে আঘাতের চিহ্ন। আরও কাছে গিয়ে দেখা যায় সবগুলোই মৃত। সদ্য জন্ম নেওয়া এই বাচ্চাগুলো মাকে না পেয়ে বাসা থেকে বের হয়ে রাতের ঠান্ডায় মারা গিয়ে থাকতে পারে। কথাগুলো বলছিলেন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার খোকন থৌনাউজাম।

ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বাঘমারা ক্যাম্পের বিপরীতে হীড বাংলাদেশের পেছনের লেক সংলগ্ন টিলার ওপরে।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে খোকন থৌনাউজাম জানান, আজ সকালে আমি ছবি তুলতে এই জায়গা প্রাণীদের খুঁজে যাই এ সময় দেখতে পাই জড়াজড়ি করে মরে পড়ে থাকা বাচ্চা দুটোকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল গত রাতের কোনো এক সময় মারা যাওয়ার সময়ও একজন আরেকজনের সঙ্গে ওম ভাগাভাগি করে টিকে থাকার চেষ্টা করে গেছে।

কিন্তু প্রচণ্ড শীত আর গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে মাকে ছাড়া টিকতে পারেনি গত কয়দিনের অনাহারে দুর্বল হয়ে পড়া বাচ্চাগুলো। তৃতীয় বাচ্চাটাকে পাওয়া যায় কিছুটা দূরে ঝোপের ভেতর, সেটার মাথার ওপরের দিকের কিছু অংশ খাওয়া। হয়তো অন্য কোনো শিকারি প্রাণীর কাজ। তন্ন তন্ন করে আশে পাশে খুঁজে আর কোনো কিছু পাওয়া গেল না। পরে বন বিভাগকে জানালে বন বিভাগের উদ্যোগে মাটিচাপা দেয়া হয় মৃত বাচ্চাগুলোকে।

আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা যায়, তিন দিন আগেও একটা বন বিড়াল লেকের পাড়ে ঘর তুলে বসবাস করা আজগর আলীর পালিতো একটা হাঁস ধরে নিয়ে চলে যায় টিলার দিকে। এর পর আর দেখা যায়নি। যদিও এ নিয়ে আজগর আলীর কোনো ক্ষোভ নেই । তিনি বলেন ওটা তার রিজিক ছিল, সে নিয়ে গেছে।

তবে বন বিভাগসহ সবার ধারণা হয়তো এই গ্রাম বা অন্য কোনো গ্রামের কেউ মেরে ফেলেছে। অথবা মারা গেছে লাওয়াছড়া রোডে কোনো বেপরোয়ারা গতির নিচে চাপা পড়ে। মায়ের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে বাচ্চারা বের হয়ে আসে তাদের বাসা থেকে। এবং মারা যায়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা  প্রকৃতিপ্রেমী নিবাসী নক্রেক জানান, আমি বাচ্চাগুলোকে দেখার পর খুব মন খারাপ করে আছি। আমি বিশ্বাস করি মানুষ তার মাকে ফেলে ফেলছে কারণ এই বনে বনবিড়াল শিকার করে খাওয়ার মত অন্য কোনো প্রাণী নেই। মানুষের কাছেই মারা গেছে। বনবিড়াল খুবই বিপন্ন একটি প্রাণী। মানুষ সামান্য একটা প্রাণীকে সহ্য করতে পারল না। হয়তো সে কারও একটা মোরগ বা হাঁস শিকার করে থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে প্রাণীদের জায়গাটা আমরা দখল করেছি। তারা মানুষের জায়গা দখল করেনি। তাদের বাসস্থান খাবার সব নষ্ট করে আবার তাদের পিটিয়ে মারছি। কি বীভৎস!

রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমাদের প্রাথমিক ধারণা বাচ্চাগুলোর মা হয়তো আশপাশে কোথাও মানুষের হাতে মারা পড়েছে। বা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। মা আসেনি তাই বাচ্চাগুলো না খেয়ে দুর্বল হতে হতে বাসা থেকে বের হয়ে আসে এবং মারা যায়। আমরা মায়ের দেহ কোথাও পাওয়া যায় কিনা তার খোঁজ নিতে চেষ্টা করছি। বাচ্চাগুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত