নাব্য সংকটে কয়েকশ বাল্কহেড আটকা

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০১ পিএম

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান বালু-পাথর কোয়ারি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের ফাজিলপুর থেকে বালি-পাথর পরিবহনে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বৌলাই নদীর তলদেশ পলি ভরাট হয়ে নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় ১০-১২ দিন ধরে তীব্র নৌজটের সৃষ্টি হয়েছে। আটকা পড়েছে বালি ও পাথরবোঝাই কয়েকশ বাল্কহেড।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অবকাঠামো নির্মাণে ফাজিলপুরের বালি ও পাথরের ব্যাপক চাহিদা দেশজুড়ে। এসব বালু ও পাথর পরিবহনের সহজলভ্য পথ হচ্ছে নৌপথ। এ পথে খরচও কম, তাই সুনামগঞ্জ থেকে যাদুকাটা-বৌলাই-সুরমা নদী হয়ে প্রতিদিন শত শত বাল্কহেডে বালু ও পাথর পরিবহন করা হয় দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে জানুয়ারি মাস থেকেই বৌলাই নদীতে নৌযান আটকা পড়ে নৌজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমানে বৌলাই নদীর বেহেলী বাজার, রহমতপুর, বদরপুর ও হিজলা গ্রামের কাছে বালু-পাথর ভর্তি কয়েকশ বাল্কহেড আটকা পড়ে আছে। উপায় না পেয়ে অনেক বাল্কহেড শ্রমিক ছোট নৌকায় বালু নামিয়ে নৌজট থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

আটকা পড়া নৌযানের সুকানি ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বৌলাই নদীর বেহেলী বাজার থেকে পৈন্ডুপ বাজার পর্যন্ত নদীর অনেক অংশ ভরাট হয়ে গেছে। দ্রুত নদী খনন না করলে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ এ নদীপথে এত দিন ধরে নৌজট থাকার পরও বিআইডব্লিউটিএর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এই নদীপথ সচল না থাকলে বালু-পাথরের দাম অনেক বাড়বে এবং নৌযানের শ্রমিকরা কষ্টে পড়বেন।

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকার নৌযান ‘হিয়া-ইমন’-এর সুকানি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমার নৌকায় ৯ হাজার ফুট বালু পরিবহন করা যায়। কিন্তু ৬ হাজার ফুট বালু নিয়ে নদীতে ১২ দিন ধরে আটকা আছি। প্রতিদিন ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে বালু নিয়ে বরিশালের উজিরপুর-ভবানীপুর এলাকায় যাওয়ার কথা ছিল এবং এই বালু দিয়ে একটি স্কুল নির্মাণকাজ শেষ করে সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা বের হতে পারছি না।’

জামালগঞ্জের মশালঘাট গ্রামের ‘মা-বাবার দোয়া’ নৌযানের চালক পারভেজ মিয়া বললেন, ‘ঢাকার গাবতলীতে ৬ হাজার ফুট পাথর পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল ৫ দিন আগেই। কিন্তু আমরা ৮ দিন ধরে নদীতেই বসে আছি।’ বেহেলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত সামন্ত সরকার বলেন, ‘বেহেলী বাজারের আশপাশে বৌলাই নদীর অনেক জায়গা ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নৌ-চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেছি।’

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পউর শাখা-১) নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বৌলাই নদীসহ সুনামগঞ্জের ১৪টি নদী খননের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে আমরা বৌলাই নদী দ্রুত খননের উদ্যোগ নেব।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং শাখার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘বৌলাই নদী ভরাটের ফলে নৌজটের বিষয়টি কেউ জানায়নি। যারা নদীতে আটকা পড়েছে তাদের কেউ আমাকে বিষয়টি অবগত করেননি। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত