তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বললেন, বিএনপি খুব ভালো বুঝেছে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশাল পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইন পাস করতে যাচ্ছে— উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “হাছান মাহমুদ বলতেছে, ‘আমরা কী করতে যাচ্ছি তা বিএনপি বুঝে নাই।’ বিএনপি খুব ভালো বুঝেছে আপনারা কী করতে যাচ্ছেন। আপনারা বাকশালকে পুনঃপ্রবর্তন করতে যাচ্ছেন। এটা বিএনপি খুব ভালো জানে। বিএনপি খুব ভালো বুঝে। ”
আরও বলেন, ‘আপনারা বলছেন, আইন পাস করবেন। কিসের আইন পাস করবেন? আপনারা তো অনির্বাচিত নিশি রাতের সরকার। আপনারা কোন আইন পাস করতে পারেন না। যে আইন পাস করবেন, সেই আইন বাংলাদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। সুতরাং নির্বাচিত সরকার আসবে, সেই নির্বাচিত সরকার যে কোন রকম আইন প্রণয়ন করবে— আমরা তা মেনে নেবো। কিন্তু যে বেআইনি আইন করার প্রচেষ্টা আপনারা চালাচ্ছেন, সেটাকে আমরা কখনই মেনে নেবো না।’
আমরা একজন ক্ষণজন্মা পুরুষকে হারিয়েছি— উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ক্ষণজন্মা পুরুষকে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এই দেশকে পরাধীনতা করার জন্য বিদেশি প্রভুদের নির্দেশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।’
আব্বাস বলেন, ‘বেগম জিয়া মৃত্যু শয্যায় জীবন কাটাচ্ছেন। আজকে এমনই সময়ে আমাদের নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কে এবং কী। এ দেশের মানুষকে যিনি গণতন্ত্র উপহার দিয়েছিলেন, তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর আজকে ওই আওয়ামী লীগ সেই গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে তিলে তিলে মারার চেষ্টা করছে।’
‘আমাদের নেতা জিয়াউর রহমানকে মানুষের মন থেকে মুছে দেয়ার চেষ্টা করছে। ইতিহাসের পাতায় শহীদ জিয়ার নাম যাতে না থাকে, সেই অবস্থা তারা তৈরি করছেন। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, জিয়াউর রহমানের নাম মানুষের মনের পাতায় গাঁথা হয়ে গেছে। সেই নাম মুছে ফেলার কোন সম্ভাবনা নাই।’
জিয়াউর রহমানের নাম শুনলে অনেকের গাত্রদাহ হয়— মন্তব্য করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের নাম শুনলে অনেক মানুষের গাত্রদাহ হয়। অন্য কারো নাম শুনলে কারো গাত্রদাহ হয় না। কেন?’
এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
