উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকের অপেক্ষায় আছেন।
রবিবার দুপুর ২টার পর তাদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা ছিল বলে জানান আন্দোলনকারীদের অন্যতম মুখপাত্র নাফিসা আঞ্জুম ইমু।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি আলোচনা হয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির। তবে ওই বৈঠকে কোনো সমাধান আসেনি। রবিবার আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত হয়।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ সিলেট মহানগর নেতারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নাফিসা আঞ্জুম ইমু রবিবার বিকেল ৫টার পর সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর ২টার পর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও তা হয়নি। আমরা অপেক্ষায় আছি। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের কিছু জানাতে পারেননি।
এ দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মানব দেয়াল তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইমু। তিনি বলেন, আমরা উপাচার্যের বাসভবনে কাউকে ঢুকতে অথবা বের হতে দেব না।
পরবর্তী কঠোর আন্দোলনের পদক্ষেপ হিসেবে তারা এ মানব দেয়াল তৈরি করেছেন বলে জানান।
ইমু বলেন, রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় আমাদের অনশনের ১০০ ঘণ্টা পূর্ণ হচ্ছে। আমরা ৬টায় মশাল মিছিল করব। যে কোনো মূল্যে আমরা আমাদের দাবি আদায় করব।
শনিবার রাতের বৈঠক বিষয়ে ওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আন্তরিকভাবে শিক্ষার্থীদের সকল কথা শুনেছেন। তারপর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন প্রশাসনিকভাবে কিংবা একাডেমিকভাবে কোনো শিক্ষার্থী হয়রানির শিকার হবে না। তাদের সকল দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমে মেনে নেওয়া হবে জানিয়ে অনশন ভাঙার কথা বলেন। তখন শিক্ষার্থীরা রবিবার সকাল পর্যন্ত সময় চান।’
তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর রাতে শিক্ষার্থীরা আমাকে জানান তারা শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইনে আলোচনায় বসতে চান। এর প্রেক্ষিতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।’
অপরদিকে বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের জোর দাবি জানালে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন- গত চার বছর উনি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো চালিয়েছেন। তাই দ্বিতীয় মেয়াদে উনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে মানুষ হিসেবে ভুল হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু পদত্যাগই একমাত্র সমাধান না। তবে শিক্ষার্থীরা এক দফা এক দাবিতে অনড় থাকেন।
