প্রথম পর্বে দেশিদের দাপট

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৭ এএম

বিপিএলের সুনাম কম অভিযোগ বেশি। তবুও দিন শেষে ক্রিকেটারদের মুখে হাসি আসাটাই বা কম কীসে! তবে সেই হাসিটা বরাবরই বিদেশি ক্রিকেটারদের বেশি। ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে শুরু করে পারফরম্যান্সের চাহিদায় বিদেশিদের চেয়ে দেশিরা পিছিয়ে। বিপিএলে মূল একাদশে সুযোগটাও পাওয়া হয় না অনেকের। সেই তুলনায় এবারের বিপিএল অবশ্যই ব্যতিক্রম। দেশিদের সুযোগ করে দিতে একাদশে বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। চার থেকে কমে এবার খেলছেন মাত্র তিনজন। প্রাপ্ত সুযোগ হেলায় হারাতে দেননি দেশিরা। ঢাকায় প্রথম পর্বে ৮ ম্যাচের ৭টিতেই সেরা পারফরমার বাংলাদেশি। অবশ্য ব্যাটসম্যানদের তুলনায় বোলারদের রাজত্বই বেশি। এই কারণটা অবশ্য উইকেটের চরিত্রের কারণে। মিরপুরের উইকেট তো বরাবরই বোলিং বান্ধব। চট্টগ্রামে বিপিএল উড়ে যাওয়ায় এবার হয়তো ব্যাটারদের মুখে হাসি ফুটবে।

প্রথম পর্বে সবচেয়ে আলাদা হয়ে আছেন নাহিদুল ইসলাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত মুখ খুলনার এই অফস্পিন বোলিং অলরাউন্ডার এবার খেলছেন কুমিল্লার হয়ে। ৮ ম্যাচের দুটিতে ম্যাচসেরা হয়েছেন দলকে জিতিয়ে। বরিশালের বিপক্ষে ঢাকায় প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে ৪ ওভারে ১ মেডেনে ৫ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বিপিএল ইতিহাসে যা চার ওভারের সেরা কিপটে বোলিং ফিগারের রেকর্ড। ২০১৫ সালে শহিদ আফ্রিদিও ৪ ওভারে সমান সংখ্যক রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। এছাড়া সিলেটের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয়েও ২০ রানে ২ উইকেট নেওয়া নাহিদুল ৫ উইকেট নিয়ে সেরা বোলারদের তালিকায় যুগ্মভাবে তিনে আছেন। শীর্ষে ৭ উইকেট নিয়ে নাজমুল ইসলাম অপু। মঙ্গলবার ঢাকার বিপক্ষে ম্যাচ সেরা হয়েছেন ক্যারিয়ারে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেট নিয়ে। ৬ উইকেট নিয়ে সেরাদের মধ্যে দুইয়ে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজের সময়টা দারুণ কাটছে। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়ক ব্যাটে বলে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ৩ ম্যাচের দুটিতে কার্যকর ইনিংসে করেছেন ৬৪ রানও। বরিশালের বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে দল হারলেও ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। ঢাকার বিপক্ষে চতুর্থ ম্যাচে চট্টগ্রামের জয়ে আরেক দেশি নাসুম আহমেদ ৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। এছাড়া ঢাকার একমাত্র জয়ের ম্যাচে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৪৭ বলে ৪৭ রান ও ১ উইকেট এবং ২টি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচ সেরা হন।

মিরপুরে ব্যাটারদের জন্য সংগ্রামের উইকেটে খুলনার প্রথম ম্যাচে সেরা হয়েছিলেন রনি তালুকদার। ঢাকার বিপক্ষে রান তাড়ার ম্যাচে ৪২ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় অসাধারণ ইনিংস খেলেন। ১৮৩ রানের লক্ষ্যে ছুটে রনির ওই ইনিংসটি খুলনার জয়ে বিশাল ভূমিকা রাখে। মাহমুদউল্লাহ বাদে ব্যাটারদের মধ্যে রনিই একমাত্র ম্যাচসেরা হন। এছাড়া অপর ম্যাচ সেরা চট্টগ্রামের অলরাউন্ডার বেনি হাওয়েল। খুলনার বিপক্ষে জয়ে এই হার্ডহিটার ২০ বলে অপরাজিত ৩৪ ও ৩৭ রানে ১ উইকেট নেন।

প্রথম পর্ব শেষে ব্যাটারদের মধ্যে ১২৪ রান নিয়ে সেরা মাহমুদউল্লাহ। বেনি হাওয়েল ১১২ রান নিয়ে দ্বিতীয় ও তামিম ইকবাল ১০৫ রানে তিনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত