২৮ জানুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ কার্যমেয়াদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এই নির্বাচনে ভোটার ও পাসধারী সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারলেও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের কেউ প্রবেশ করতে পারছে না।
গত ২৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন ও নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুন। তবে অন্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার মাঝরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এর প্রতিকার চান। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে একাধিক চলচ্চিত্র নেতা জানিয়েছেন আজ অন্য সংগঠনের সদস্যরাও প্রবেশ করতে পারবেন।
কিন্তু শুক্রবার দুপুর নাগাদ জানা গেল অন্য সংগঠনের সদস্যরা এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। গুণী প্রযোজক-পরিচালক থেকে শুরু করে অন্য সংগঠনের নেতারাও এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ আমাদের নেতা কর্মীরা অনেকেই এফডিসিতে প্রবেশ করতে পারেননি। আমিও এফডিসিতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম কিন্তু পরে জানলাম, শাহীন সুমন, সোহান ভাই, দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর মতো গুণী পরিচালকরাও প্রবেশ করতে পারছেন না। পরে এফডিসি যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করি।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব শাহীন সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজ এফডিসিতে ১৭ সংগঠনের কেউই ঢুকতে পারেন নাই। সদস্য শুধু নয়, অন্য সংগঠনের নেতৃস্থানীয়রাও প্রবেশ করতে পারেন নাই। আমিও ঢুকি নাই। ভোটার শিল্পীরা ছাড়া কেউই ঢুকতে পারছেন না।’
এদিকে গতরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংগঠনগুলোর বৈঠকের পর জানা গিয়েছিল ১৭ সংগঠনের সদস্যরা প্রবেশ করতে পারবেন কিন্তু সেই নির্দেশনা কেন মানা হচ্ছে না? জবাবে শাহীন বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে একটি মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যাতে অন্য সংগঠনের সদস্যরা প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এফডিসি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ তা মানেননি।’
এই ঘটনায় অন্য সংগঠনগুলো কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা জানতে চাইলে শাহীন সুমন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই পদক্ষেপ নেব। আমাদের সবার প্রাণের জায়গায় আমাদেরকে প্রবেশ করতে দিবে না, এফডিসির এমডি একক সিদ্ধান্তে এসব করল, এটা গোয়ার্তুমী, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আগামীকাল আমরা ১৭ সংগঠন মিটিং করব। এফডিসিতে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় সব সংগঠন সম্মিলিতভাবে সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ নেব।’
উল্লেখ্য, তারকা অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে গড়া দুটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে এই নির্বাচনে। বিএফডিসিতে অবস্থিত শিল্পী সমিতির স্টাডি রুমে ভোট চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে ৪২৮ জন ভোটার ২১টি পদে তাদের প্রতিনিধি বাছাই করবেন।
নির্বাচনে কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এই প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণ।
অন্যদিকে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী খলচরিত্রের অভিনেতা মিশা সওদাগর। এই প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী জায়েদ খান।
দুটি সহসভাপতি পদে কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের প্রার্থী রিয়াজ ও ডি এ তায়েব। অন্যদিকে এই দুই পদে মিশা-জায়েদ প্যানেলের প্রার্থী মাসুম পারভেজ রুবেল ও খলচরিত্রের অভিনেতা ডিপজল।
সহসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক পদে লড়ছেন কাঞ্চন-নিপুণ পরিষদের যথাক্রমে সাইমন ও শাহনূর। এই দুই পদে মিশা-জায়েদ পরিষদের প্রার্থী যথাক্রমে সুব্রত ও আলেকজান্ডার বো।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী নিরব ও জয় চৌধুরী। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে আরমান ও জ্যাকি আলমগীর। ইমন ও জাকির হোসেনের লড়াই হবে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে। কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ফরহাদ ও আজাদ খান।
১১টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদের জন্য নির্বাচনে লড়ছেন ২৪ জন। তারা হলেন— অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, অমিত হাসান, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, আসিফ ইকবাল, কেয়া, গাংগুয়া, চুন্নু, জেসমিন, ডন, নাদির খান, নানা শাহ, ফেরদৌস, বাপ্পারাজ, মৌসুমী, হরবোলা, রোজিনা, শাকিল খান, সুচরিতা, সাংকুপাঞ্জা, সীমান্ত ও হাসান জাহাঙ্গীর।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন পীরজাদা হারুন। কমিশনের বাকি দুই সদস্য বি এইচ নিশান ও বজলুর রাশীদ চৌধুরী।
নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে সোহানুর রহমান সোহানকে। মোহাম্মদ হোসেন জেমী ও মোহাম্মদ হোসেন আপিল বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
