চিড়িয়াখানার রক্ষীকে মেরে সিংহকে নিয়ে পালাল সিংহী!

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৩৩ পিএম

জোর করে খাঁচায় বন্দি রাখা হয়েছিল তাকে আর তার সঙ্গীকে। মন থেকে মানতে পারেনি সে। খাঁচায় কতক্ষণই বা মন টেকে! এভাবেই কেটেছে এক বছরেরও বেশি সময়। শেষ পর্যন্ত দ্বাররক্ষীকে মেরে সঙ্গীকে নিয়ে চম্পট। না, কোনও মানব যুগলের কথা হচ্ছে না। হচ্ছে পশুরাজ ও তার সঙ্গিনীর কথা। ইরানের একটি চিড়িয়াখানায় ঘটেছে এমনই কাণ্ড।

বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা বলে, দৈনিক ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা ঘুমায় এক একটি পূর্ণবয়স্ক সিংহ। কিন্তু সিংহীরা কতক্ষণ ঘুমায় জানা নেই। ইরানের আরাক শহরের চিড়িয়াখানায় কয়েক বছর ধরে একটি খাঁচায় রাখা হয়েছিল একটি সিংহ ও একটি সিংহীকে। সারা দিন ঘুমাতে পেরে সিংহ বিশেষ উচ্চবাচ্য না করলেও সিংহী প্রথম থেকেই হুঙ্কার গর্জন করতে থাকে। বনের রানিকে কি খাঁচায় আটকে রাখা চাট্টিখানি কথা! এভাবেই কাটে একটি বছর। কিন্তু হাল ছাড়েনি সিংহী। এক দিন সুযোগ পেয়ে পাহারাদারের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। থাবার আঘাতে প্রাণ কেড়ে নেয়। অতঃপর, ভেতরে ঘুমে থাকা সঙ্গীকে তুলে মুহূর্তে উধাও সিংহ যুগল।

গত রবিবার সে তার খাঁচার একটি দরজা খুলতে সক্ষম হয়। পরে সে খাঁচা থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে ৪০ বছর বয়সী রক্ষকের ওপর হামলা করে। এ সময় রক্ষক প্রাণী দুটির জন্য খাবার নিয়ে এসেছিলেন।

এ দিকে খাঁচা ভেঙে, রক্ষীকে মেরে সিংহ-সিংহী পালিয়েছে শুনেই আরাক শহরে লাল সতর্কতা জারি করা হয়। ইরানের রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের মারকাজি প্রদেশে আরাক শহরটি অবস্থিত। যুগলের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে বন্যপ্রাণ বিভাগের দল। ছুট লাগায় পুলিশও। অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে আরাক শহরের একে বারে প্রান্তিক এলাকায় খোঁজ মেলে তাদের। আবার খাঁচাবন্দি হয় সিংহ যুগল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত