খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বেপরোয়া গাড়ি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৩৪ পিএম

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে জিরো পয়েন্ট-গল্লামারী সড়কে চার লেনের রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে কাজের অগ্রগতি ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে। দূরপাল্লার চার চাকার গাড়ি বাস, ট্রাক, পিকআপ, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, লরি, কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি  যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলছে। অথচ কোনো স্পিড ব্রেকার, ফুটওভার ব্রিজ নেই।  রাস্তা পার হতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা থাকলেও এখনো টেন্ডার হয়নি। কাজ শেষ না হলে জেব্রা ক্রংসি, রোড ক্রংসিং, সিগন্যাল, সর্তকবার্তা দেওয়া যাচ্ছে না। 

এ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ শেষ হবে জুনের মধ্যে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনের রাস্তা,গল্লামারী বাজার রোডের সামনের চিত্র একই। রাস্তা পার হতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও অনান্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের বিপরীতে  ছাত্রদের তুলানায় ছাত্রীরা মেস বাসায় ভাড়া করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে রাস্তা পার হতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথচ রাস্তায় কোনো সর্তক বার্তা নেই।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সওজের মিটিং হয়েছিল গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর। জিরো পয়েন্ট থেকে গল্লামারী চার লেন প্রকল্পে নিরাপদে যানবাহন ও জনচলাচলের জন্য সড়ক ডিভাইডার, সার্ভিস লেন, ফুটপাথ কাম ড্রেন, দৃষ্টিনন্দন ফুটওভারব্রিজসহ বেশকিছু বিষয় অন্তর্ভুক্তি ও বাস্তবায়নের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়। কিন্তু  রাস্তা সংস্কারের কাজ শেষ না হওয়ায় এখনো কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

সওজ সূত্রে জানা যায়, ময়লাপোতা মোড় থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল।প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর অর্থাৎ ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

বাংলা ডিসিপ্লিনের ফারহানা নাজ বন্নি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বিশেষ করে মেয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের বিপরীতে আবাসিক এলাকাগুলোতে থাকে। রাস্তা দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি এবং ভারী পণ্যবাহী ট্রাক বেপরোয়া গতিতে চলে। রাস্তা পারাপারের সময় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিতে হয়। প্রশাসনের উচিত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করা, কারণ সবার আগে জীবন।

এ দিকে জয় বাংলা রোড থেকে সোনাডাঙার ময়ুরী ব্রিজের বাইপাস রোডের সংস্কারে কাজ চলায় গাড়িগুলো ইসলামনগর হল রোড দিয়ে প্রতিনিয়িত যাতায়াত করছে। হল রোডে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। খাওয়া, আড্ডা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ এখানে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত করে থাকেন। গাড়ি এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

উপজেলা প্রকৌশলী (ডুমুরিয়া) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। যার ফলে ওই রোড দিয়ে গাড়িগুলো চলাচল করছে। আগামী চার পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। তখন ওদিকে গাড়িগুলো আর যাবে না।
ইংরেজি ডিসিপ্লিনের মোস্তাক আহমেদ বলেন, গল্লামারী টু জিরো পয়েন্ট রোড এবং হল রোড (ইসলাম নগর রোড) শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতেছে। এই রাস্তা দুটিতে অতি শীঘ্রই গাড়ি চলাচলের সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা এবং এর যথাযথ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনা এড়াতে আরো যেসব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সেগুলো নির্ধারণ করে দ্রুত  বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেইন গেটের তুলনায় গল্লামারী রোড (হল রোডের শেষ প্রান্ত) দিয়ে বেশি যাতায়াত করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই রোডের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতামত জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. খান গোলাম কুদ্দুস বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সওজ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি এবং টেলিফোনে জানিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় স্পিডব্রেকার ও ফুটওভার ব্রিজে নির্মাণে বিষয়ে।তারা আমাদের বলেছেন, কাজ এখন চলমান। অতিদ্রুত এটার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসের ভেতরে অবকাঠামো গত উন্নয়ন প্রক্লপের কাজ চলছে। ইট, পাথর বহনকারী মিনি ট্রাকগুলো গতিবিধি না মেনে চলাচল করতে দেখা যায়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে নির্মাণ কোম্পানিদের সঙ্গে কথা বলব। গাড়িগুলোর গতিবিধি বিষয়ে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (খুলনা) মো. আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, ফুটওভার ব্রিজের ডিজাইন শেষ।  বরাদ্দ হয়ে গেছে।  এরপর টেন্ডারের অপেক্ষায়  আছে। টেন্ডার হয়ে গেলে কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া স্পিড ব্রেকারের বিষয়টি  বিবেচনায় আছে কর্তৃপক্ষের বলে জানিয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত