জ্ঞান অর্জন কেন জরুরি

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:০৯ এএম

ব্যক্তিজীবনে জ্ঞানার্জন জরুরি। কেননা, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত। সৃষ্টি জগতের অন্যান্য প্রাণী ও মানুষের মধ্যে পার্থক্য হলো জ্ঞান থাকা বা না থাকা। সে হিসেবে বলা যায়, মানুষকে শুধু খেয়েদেয়ে জীবনযাপন করলেই হয় না, অর্জন করতে হয় জ্ঞান, হতে হয় জ্ঞানী ও শিক্ষিত।

আমরা মানুষ, ‘সৃষ্টির সেরা জীব।’ এ পরিচয়ের পাশাপাশি আরেকটি শ্রেষ্ঠ পরিচয় রয়েছে, আমরা ‘মুসলমান।’ আমাদের ধর্ম ‘ইসলাম।’ ইসলাম ধর্মে প্রতিটি মানুষকে বলা হয়েছে, জ্ঞানার্জনের কথা। ব্যক্ত করা হয়েছে জ্ঞানার্জনের অশেষ গুরুত্ব ও ফজিলতের কথা।

মানবজাতিকে জ্ঞানার্জন ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য আল্লাহতায়ালা নবী করিম (সা.)-এর ওপর নাজিল করেন, জীবনবিধান ‘আল কোরআন।’ সুরা আলাকের প্রথম ৫ আয়াত নাজিলের মধ্য দিয়ে, কোরআন নাজিলের সূচনা হয়। নাজিল হওয়া ৫ আয়াতের প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘পড়ো, তোমার প্রভুর নামে। যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ কখনো ভেবে দেখেছেন কী? আল্লাহ ইচ্ছে করলে, প্রথমেই নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত কিংবা অন্যান্য ইবাদতের নির্দেশ দিতে পারতেন। কিন্তু দেননি, দিয়েছেন জ্ঞানার্জনের নির্দেশ। বলেছেন, পড়ো, তথা জ্ঞানার্জন করো। তাই, সবাইকে পড়তে হবে, জানতে হবে, জানার কোনো বিকল্প নেই।

জ্ঞানার্জনের প্রতি এত তাগাদা সত্ত্বেও অনেকেরই জ্ঞানার্জনের প্রতি প্রচণ্ড অনীহা দেখা যায়। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। না জানা কোনো গরিমার বিষয় নয়, এটা ব্যর্থতা; জীবনের অপূর্ণতা। সুতরাং আমি জানি না, এ কথা বললে হবে না। জানতে হবে, শিখতে হবে; জানার চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহতায়ালা জ্ঞানীদের ভালোবাসেন, প্রশংসা করেন। জ্ঞানীদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেছেন, ‘আর আমি ওই দৃষ্টান্তগুলো মানুষের উপদেশ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বর্ণনা করে থাকি। বস্তুত ওই সব দৃষ্টান্ত শুধু জ্ঞানী ব্যক্তিরাই বোঝে।’  সুরা আনকাবুত : ৪৩

মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, ‘আপনি বলুন, যারা জানে এবং জানে না, তারা কি সমান হতে পারে?’ সুরা জুমার : ৯

শুধু কোরআনে করিমে নয়, জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব ও জ্ঞানীদের প্রশংসায় বহু হাদিসও বর্ণিত হয়েছে। বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ মুসলিম শরিফে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে কোনো পথ অবলম্বন করল, আল্লাহ এর দ্বারা তার বেহেশতের পথ সহজ করে দেবেন। যখন কোনো একটি দল আল্লাহর ঘরগুলোর কোনো একটি ঘরে (মসজিদ, মাদ্রাসায়) একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করতে থাকে এবং তা পরস্পর আলোচনা করতে থাকে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর স্বস্তি ও শান্তি অবতীর্ণ হতে শুরু করে, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে নেয়, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আল্লাহতায়ালা ফেরেশতাদের কাছে এসব বান্দার আলোচনা (প্রশংসা) করেন। যার কর্ম তাকে পিছিয়ে দেয় তার বংশ মর্যাদা তাকে এগিয়ে দিতে পারে না।’ মুসলিম শরিফ

জ্ঞানার্জন সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বর্ণনা করেন, ‘প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞানার্জন করা ফরজ।’ ইবনে মাজাহ

একজন মুসলমানের ওপর আল্লাহর কী কী হুকুম রয়েছে এবং তা রাসুল (সা.)-এর নিয়ম অনুযায়ী কীভাবে পালন করা যায়, তা জানতে হবে। না জানলে গোনাহ হবে। এ সব বিষয় অনুধাবনের পর, প্রতিটি মানুষের উচিত জ্ঞানার্জন করা, জ্ঞানার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত