হিমালয়ের পাদদেশের জেলা হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরে ৭ ঘণ্টায় ৩০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা মাঘ মাসে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করে আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস।
রাত থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে খেটে খাওয়া ও দিনমজুরেরা পড়েছে চরম দুশ্চিন্তায়।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে দিনাজপুরে গুঁড়ি গুঁড়ি ও মুষলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আবহাওয়া অফিস দিনাজপুরে ৩০ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। যা দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে রেকর্ড করা হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টা আরও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রটি জানায়, দিনাজপুর জেলায় আজ ভোর ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় উপজেলায়। সেখানকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে রাত থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের ফলে খেটে খাওয়া ও দিন মজুরের পড়েছে চরম বিপাকে। দিনাজপুর শহরের ষষ্ঠীতলা মোড় ‘শ্রমিকের হাট’ হিসেবে পরিচিত। এই হাটে প্রতিদিন বিভিন্ন পেশার শ্রমিকেরা জড়ো হয়েছেন কাজের সন্ধানে। তেমনি কাজে সন্ধানে এসেছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুরের দিনমজুর খায়রুল ইসলাম।
তিনি বলেন, স্ত্রী আমাকে ভোরে বাড়ি থেকে বের হতে নিষেধ করেছিল। তার কথা না শুনে ষষ্ঠীতলায় চলে আসি। আসতে আসতে বৃষ্টিতে ভিজে গেছি। এখন কোনো কাজও পাচ্ছি না। আবার বাড়ি চলে যেতে হচ্ছে।
শহরের ঘাসিপাড়া বটতলায় অবস্থান করা ভ্যানচালক শামসুল হক বলেন, ভোরে ভ্যান নিয়ে একটু ভাড়া খাটার জন্য বের হলাম, তাতেই ভিজে গেছি। এখন বাড়ি চলে যাচ্ছি। আমি দিনে ভাড়া মারলে পরের দিন খেতে পারি। ভাড়া না মারলে তো খেতে পারি না।
একইভাবে বৃষ্টির কারণে কোনো ক্রেতা নেই বলে জানালেন ছয় রাস্তা মোড়ের হোটেল শ্রমিক আকাশ।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিনাজপুর, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, নওগাঁ, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের অনেক স্থানে বৃষ্টি হয়েছে বা হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া আজ দিনাজপুরের বাতাসের আর্দ্রতা ৯১ শতাংশ; বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫-৭ কিলোমিটার।
