ভাইয়ের হাতে ভাই খুনসহ কেরানীগঞ্জে একদিনে ৩ লাশ

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৮:১৩ পিএম

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে দুই ভাই মিলে বড় ভাইকে হত্যাসহ একই দিনে নৌকার মাঝি ও অজ্ঞাত বৃদ্ধের লাশসহ মোট তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পারিবারিক কলহের জেরে আপন ছোট দুই ভাই মিলে বড় ভাইকে হত্যা করা নিহতের নাম আব্দুল জলিল (৪৫), তিনি বাস্তা ইউনিয়নের রাজাবাড়ী নামারহাটি এলাকার মৃত হাজী কানু মিয়ার ছেলে।

শুক্রবার ভোর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আব্দুল জলিলকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আব্দুল জলিল, আলমগীর হোসেন (৪০) ও জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৭) আপন তিন ভাই। তারা রাজাবাড়ি নামারহাটি পৈতৃক বাড়িতে একই সঙ্গে বসবাস করেন। বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক কলহে ছোট ভাইদের সঙ্গে বড় ভাইয়ের  ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে মেজো ভাই আলমগীর হোসেন ও ছোট ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন মিলে বড় ভাই আব্দুল জলিলের বুকে ও পেটে কিল ঘুষি মারলে হঠাৎ বড় ভাই  অজ্ঞান হয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে মণীন্দ্র চন্দ্র (৬৫) নামের এক নৌকা মাঝিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন চুনকুটিয়া চৌধুরী পাড়া এলাকায় ভোর রাতে কে বা কারা ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মণীন্দ্র, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের বাঘৈর ঋষিপাড়া এলাকায় মরণ চন্দ্রের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বুড়িগঙ্গায় তেলঘাট এলাকায় নৌকার মাঝি হিসাবে কাজ করতেন।

এদিকে শুক্রবার সকাল ১১টায় পোস্তগোলা হাসনাবাদ কবরস্থানের পার্শ্ববর্তী বড় মসজিদ ঘাট এলাকায় অজ্ঞাত (৬০) এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।

হাসনাবাদ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোশাররফ হোসেন জানান, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ সময় নিহতের গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন দেখা যায়নি।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) খালেদুর রহমান জানান, নৌকার মাঝি মনীন্দ্র চন্দ্র হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে আমরা কিছু ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছি, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে জানতে পেরেছি তার শরীরে ৬টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিছক ছিনতাইয়ের ঘটনা হলে এতগুলো ছুরির আঘাত করা হতো না বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

‘এ ছাড়া রাজাবাড়ী এলাকায় পারিবারিক কলহে ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্বে একজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই ভাই পলাতক থাকায় তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় পৃথক পৃথক  মামলা করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত