নরসিংদীর শিবপুরে গাড়ি ছিনতাই চক্রের সদস্যদের হাতে জোড়া খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগ উঠেছে, সাহায্য চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তৎপর হলে রুবেল মিয়া (২৫) ও মো. জাহাঙ্গীরকে (৩০) খুন হওয়া থেকে বাঁচানো যেত।
গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া তিনটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দুজনকে গ্রেপ্তার ও গাড়ি উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও তার ভগ্নিপতি বিল্লাল হোসেন (৩০)।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার হলেও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে শিবপুরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শ্রীফুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়কের পাশ থেকে গাড়িচালক রুবেল ও জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিভিন্ন সূত্র থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয় পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বুধবার রাতে রুবেল মিয়া নামে এক যুবক রেন্ট-এ-কারের চালক শাহজালালকে ফোন করে মাধবদীতে একটি ট্রিপ থাকার কথা জানান। পরে রুবেল, শাহজালাল ও জাহাঙ্গীর একত্রিত হন। তারা তিনজন রেন্ট-কারের চালক। তিনজনের সঙ্গে ওই রাতেও প্রাইভেটকার ছিল।
মাধবদী না গিয়ে তারা রায়পুরার খলাপাড়া এলাকায় যান। সেখানেই কৌশলে মূল হোতা সোহেল ও তার সহযোগীরা তিনটি প্রাইভেটকার ছিনতাই করেন। এরপর মাদকের অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সোহেল ও তার সহযোগীরা শ্বাসরোধ করে রুবেল ও জাহাঙ্গীরকে হত্যা করেন। শাহজালাল ও অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
জোড়া খুনের পর বৃহস্পতিবার সকালে শ্বশুর বাড়ি গিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে থাকেন সোহেল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি, ৫২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ উদ্ধার করা হয় তিনটি প্রাইভেটকার। এছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গাড়ি ছিনতাইয়ের পর পুলিশের সহায়তা চেয়েছিল ছিনতাইকারীদের হাত থেকে প্রাণে বেঁচে আসা শাহাজালাল ও তার নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পলাশ মাইক্রো স্ট্যান্ডের চালকদের এক নেতা জানান, বুধবার গাড়ি ভাড়া নিয়ে চালক শাহাজালালকে মারধর করে তার গাড়ি ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। সেখান থেকে পালিয়ে এসে শাহাজালাল আমাদের জানানোর পর আমরা বুধবার রাতেই পুলিশের কাছে গিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘পুলিশকে গাড়ি ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানিয়েছি। একইসঙ্গে পুলিশের সাহায্য চেয়েছি। তখন পুলিশ যদি তড়িৎ ব্যবস্থা নিত, তাহলে হয়তো চালক দুজন প্রাণে বেঁচে যেতো।’
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার ঘটনায় সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোহেলের বিরুদ্ধে রায়পুরা ও ঢাকার বাড্ডা থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সে একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
