নতুন এক গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এভারেস্ট পর্বতের সর্বোচ্চ হিমবাহ দ্রুত গতিতে গলে যাচ্ছে। যা এ অঞ্চলের ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, মেইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। তারা দেখেছেন যে সাউথ কোল হিমবাহ গত ২৫ বছরে ১৮০ ফুট বা ৫৪ মিটারেরও বেশি পুরুত্ব হারিয়েছে।
হিমবাহটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৯০৬ মিটার বা ২৫ হাজার ৯৩৮ ফুট ওপরে অবস্থিত। এটি বরফ তৈরি করার চেয়ে ৮০ গুণ দ্রুত পাতলা হচ্ছে।
উষ্ণতা বৃদ্ধি ও প্রবল বাতাসকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করছেন গবেষকেরা।
এ হিমবাহের তৈরি হতে প্রায় ২ হাজার বছর সময় লেগেছিল। গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞানীরা দেখেছেন ১৯৯০ এর দশক থেকে এটি গলতে শুরু করেছে।
তারা জানান, হিমবাহের পুরু তুষার আচ্ছদিত অংশটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কালো বরফকে সূর্যের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এ কারণে গলন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়েছে।
গবেষণা দলে যুক্ত কিংস কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. টম ম্যাথিউস জানান, তাপমাত্রার বৃদ্ধি হিমবাহকে একটি প্রান্তিক অবস্থানে নিয়ে গেছে।
হিমবাহের গলন ব্যাপকভাবে গবেষণার বিষয় হলেও এই উচ্চতায় হিমবাহের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আগে পরীক্ষা করা হয়নি।
১০ জন বিজ্ঞানীর একটি দল হিমবাহ পরিদর্শন করেছেন। তারা সেখানে বিশ্বের দুটি সর্বোচ্চ আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন ও নমুনা সংগ্রহ করেছেন।
অভিযানের নেতা ড. পল মায়েউস্কি জানান, হিমবাহের দ্রুত গলে যাওয়া আঞ্চলিক থেকে বৈশ্বিক স্তরের উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রায় ১০০ কোটি মানুষ পানীয় জলের জন্য হিমালয় পর্বতশ্রেণীর ওপর নির্ভর করে। এখন যদি এই অঞ্চল ও বিশ্বব্যাপী হিমবাহগুলো এভারেস্টের উদাহরণ অনুসরণ করে, তবে পানীয় ও সেচের পানি সরবরাহ করার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে। এ ছাড়া এ ঘটনা ভবিষ্যৎ পর্বতারোহণকে কঠিন করে তুলবে।
