‘চিকিৎসক না থাকায়’ সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাটের লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় সিজারের পর প্রসুতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বজনদের দাবী- ক্লিনিকে চিকিৎসক না থাকায় প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন।

রবিবার সকালে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথমে প্রসূতির ও তার কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার সুত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে উপজেলার টংগুয়া গ্রামের ধরপাড়ার আবু সায়েমের স্ত্রী মাজেদা বেগমের (৩৫) প্রসব বেদনা শুরু হলে পাকেরহাট লাইফ কেয়ার ক্লিনিকে নিয়ে যায়। পরে ওই ক্লিনিকের দায়িত্বরত নার্সরা নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করার পর রোগীর স্বজনদের আগ্রহে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকে সিজার করা হয়। সে সময় রোগীর সিজার করেছিলেন দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জন ডা. রবিউল ইসলাম। সিজার সম্পন্নের পর চিকিৎসক ওই ক্লিসিক ত্যাগ করে চলে যান।

আরও জানা যায়, এরপর প্রসূতির রক্তক্ষরণ শুরু হলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে প্রসূতি ও নবজাতককে নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা প্রদান করেন। এরপরও তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে রাতে প্রথমে নবজাতক ও পরে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভর্তির পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকালে প্রসূতির ও তার কিছুক্ষণ পর নবজাতকের মৃত্যু হয়।

নিহত প্রসূতির স্বামী আবু সায়েম জানান, চিকিৎসকের ভুলে সিজার করতে গিয়ে নাড়ি কেটে ফেলে। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুরে পাঠান। সেখানে ভর্তির পরপরই প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

অপারেশনকারী সার্জন ডা. রবিউল ইসলামকে ফোন দেয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

তবে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি হয়নি বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন।

ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ নওশাদ জানান, সিজারের পর প্রসূতি ও নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রসূতি ও নবজাতক মারা যান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ ধরনের অনাকাঙ্খিত মৃত্যু কাম্য নয়। বিষয়টি জানার পর তা তদন্ত করা হচ্ছে। প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে পাকেরহাটে অবস্থিত ইনফিনিটি ক্লিনিকে এক প্রসূতি ও মমতাজ ক্লিনিকে এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত